PCOS এর ঘরোয়া প্রতিকার

0
3383
PCOS এর ঘরোয়া প্রতিকার

PCOS এর ঘরোয়া প্রতিকার

ঘরোয়া উপায়ে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম(PCOS)প্রতিকার করুন

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম(PCOS) আজকাল অনেকটা সাধারণ একটি রোগে পরিণত হয়েছে। অনেক নারীর মাঝেই এটি দেখা যাচ্ছে। এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নারীদের ঔষধ খেতে হয়, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয় এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে ব্যায়ামও করতে হয়। তবে অনেকেই জানেন না এই রোগ প্রতিরোধের কিছু ঘরোয়া উপায়ও রয়েছে। উপকরণগুলো আমাদের রান্না ঘরেই পাওয়া সম্ভব এবং সেগুলো প্রতিদিনের খাবারে যোগ করুন।

চলুন তাহলে জেনে নেই উপাদান গুলো সম্পর্কে-

#মেথিবীজ

যে নারীদের PCOS থাকে তাদের অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোন দেহের কোষে কার্যকর ভাবে ব্যবহৃত হতে পারেন না। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই মেথিশাক বা বীজ খাওয়ার ফলে তা ইন্সুলিন হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে মেথি দেহের গ্লুকোজের সহনশীলতার মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। ৩ চা চামচ মেথি বীজ ভালো করে ধুয়ে সারারাত দেড় কাপ পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন ৩ বারে সেটি খান, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এবং দুপুরে ও রাতে খাওয়ার ৫ মিনিট আগে। এছাড়া খেতে পারেন মেথি শাকও।

#দারুচিনি

ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের মতে এই মশলাটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর রয়েছে রক্তের শর্করার মাত্রা স্থির রাখার ক্ষমতা এবং ইনসুলিন প্রতিরোধক কমাতে সাহায্য করে। তাই মিল্কশেক বা দইয়ে মিশিয়ে দারুচিনি খেতে পারেন, কেক বা মাফিন তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন বা চায়ের সাথে সামান্য কিছু দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়েও খেতে পারেন। আর এতে ক্যালরির পরিমান খুবই কম তাই ওজন বৃদ্ধির কোনো চিন্তা থাকবেনা।

#তিসিবীজ

ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ এর সমৃদ্ধ এই বীজটি খাদ্যআঁশের খুবই ভালো একটি উৎস এবং এতে আরো থাকে লিগনান নামক এক ধরনের প্রোটিন যা টেস্টোস্টোরেন হরমোনের উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের মতে তিসিবীজ দেহের গ্লুকোজ এবং ইনসুলিনের যথাযথ ব্যবহার হতে সাহায্য করে এবং PCOS এর বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে। তিসিবীজকে গুঁড়ো করেই সকালের নাস্তায় বা জুসের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। চাইলে খাবার পানির সাথেও সামান্য কিছুটা মিশিয়েও খেতে পারেন।

#তুলসি পাতা

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের মতে PCOS থাকা নারীদের ডিম্বস্ফোটন না হওয়ার কারণে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না। এছাড়া লিভার থেকে উৎপন্ন হওয়া প্রোটিন ‘সেক্স হরমোন বাইন্ডিং গ্লোবিউলিন’(SHBG) এর উৎপাদনও খুব কম হয়। এর ফলেই PCOS থাকা নারীদের মুখে অবাঞ্ছিত চুল গজায়, ব্রণ হয় এবং বাচ্চা নিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তুলসি পাতা অ্যান্ড্রোজেন হরমোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং ইন্সুলিনের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে। এটি একটি চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও। সকালে খালি পেটে ১০টি তুলসি পাতা চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া তুলসি পাতা দিয়ে সেদ্ধ করা পানি খেতে পারেন নিয়মিত।

#মধু

স্থূলতা এবং PCOS একটি অন্যটির সাথে জড়িত। PCOS এর সমস্যা থাকলে তা হরমোনের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যা দেহকে স্থুলতার দিকে নিয়ে যায়। যদি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে তা থেকে বিভিন্ন রোগের সূত্রপাত হতে পারে যেমন আর্থাইটিস বা হৃদরোগ ইত্যাদি। পুষ্টিবিদদের মতে মধু ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে এবং পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। এক গ্লাস পানিতে ১ টেবিল চামচ মধুর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন খুব সকালে খালি পেটে খেতে হবে। এটি দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করবে। তবে মনে রাখতে হবে মধু মিশিয়ে কখনোই গরম করা যাবে না বা সেই মিশ্রণটি রেখে দিয়ে পরে খাওয়া যাবে না এর ফলে মধুর কার্যকারিতা নষ্ট হয় এবং তখন এটি দেহের ওজন বাড়াবে।

#করলা ও পটল

ডায়াবেটিস রোগীদের সাধারণত করলা এবং পটল খেতে বলা হয়ে থাকা ইনসুলিন এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য। এগুলোর পাতা এবং সবজি দুটিই খেতে পারে PCOS থাকা নারীরা। তারা এগুলো রান্না করে সপ্তাহে ৫দিন খেতে পারে। এছাড়া ভালো উপকার পেতে যদি সম্ভব হয় করলা ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে খেতে পারে।

#আমলকী

ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আমলকীতে রয়েছে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের এবং নারীদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ানোর দারুন ক্ষমতা। পুষ্টিবিদদের মতে এটি দেহের দূষণ দূর করার চমৎকার একটি উপাদানও বটে। এটি দেহের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে যার ফলে দেহের ওজনও কমে। আমলকী রস করে কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন। এছাড়া কাঁচাও খেতে পারেন বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

#বর্জনীয় খাবার

কিছু খাবারের কারনে ওজন বৃদ্ধি পায় তাই যেসব খাবারে চিনি, লবন, রিফাইন ময়দা বা ফ্যাট থাকে সেগুলো বর্জন করতে হবে। যেমন-
চিপস, চকলেট, কেক, জুস, চিনি, বিস্কিট, আইস ক্রিম, ডোনাট, আলু, সাদা চালের ভাত, পাস্তা, দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত তেলে ভাঁজা খাবার, ফ্রোজেন খাবার, প্রক্রিয়াজাত করা খাবার, চালের পিঠা, প্রক্রিয়াজাত করা মাংস, অতিরিক্ত লবনের স্ন্যাক্স গুলো, বিভিন্ন গ্যাস ড্রিঙ্কস এমনকি কি ডায়েট ড্রিঙ্কস গুলোও। এছাড়া উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচকের খাবার গুলো।

লেখিকা
শওকত আরা সাঈদা(লোপা)
জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ
এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)
মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
3

পাঠকের মতামতঃ