Eshita Payel

0
2734
Eshita Payel

#ওজন_কমানো_বিষয়ক_খুশি _খুশি _বিশাল_পোস্ট।

ছোট কাল থেকেই মোটা ধাচের। পরিবারের সবাই মোটু। কলেজে পড়ার সময় অনেক ওয়েট গেইন করলাম। ইউনিভার্সটিতে পড়ার সময় সচেতনতা এলো। মল চত্ত্ব র আর টিএসসিতে হাটতে হাটতেই অনেক শুকালাম। হলে থেকে ডায়েট হয় না। তাও কিভাবে যেনো ৫৬ থেকে ৪৪ এ আসলাম। বিয়ের পর সেটা আবার ৬০ তে। প্রথম প্রেগন্যান্সিতে সেটা ৯০ হলো। বেবি হবার পর কমে আসলো ঠিকই। কিন্তু একদম ঝরঝরা হলাম না। শুরু করলাম ডায়েট। ক্রাশ ডায়েট। মাথার চুল স্কিন সব গেলো। সাথে ওজন ও। ৬০ থেকে ৪৮ এ আসলাম। এক দের বছর সময় লাগলো। প্রচন্ড খিটখিটে হলাম, খুদায় কেমন পাগল পাগল হতাম। এরপর জিমে গেলাম টোনিং এর জন্য। ৪৫ কেজি হলাম। ৩ বছর ৪৫-৪৮ এরকম থাকার পর ২য় প্রেগন্যান্সি এলো। যেই কি সেই। আবার ৯০ কেজি হলাম। উফফফফফ কি যে কস্ট। বেবি হবার পর সেটা কমলোও না। ৮০ হলো কিন্তু একমাসেই আবার ৮৬ কেজি। পাগল হবার দশা। শম্পার কাছে গেলাম। অমন কঠিন ভাবে ডায়েড় মানা সম্ভব হলো না। জিমে গেলাম। সাথে ডায়েট ও। কমছিলো বেশ। ৭০ এ আসার পর আর কমে না। বহু কস্টে ৬৮ আসলাম। আবার ক্রাশ করলাম। কিন্তু আবার মাথার চুল, স্কিন সব যায় যায়। কেনো জানি একদম এনার্জি পেতাম না। আর এত উল্টা পাল্টা ডায়েট করে সুস্থ থাকা যায় না। সবাই ভাবে যে ক্রাশ করলেই শুকায়। হা, সেটা সাময়িক। আর খুব দুর্বল করে। আমি ডিটক্স খেতাম বলে স্কিনের খুব এক টা খারাপ হয় নি।
এই ৬৮ থেকে ৬৪ তে আসতে অনেক দিন লাগলো। কমলেও আবার সেটা বেড়ে যেতো। চরম হতাশ হলাম। তখন এই গ্রুপে আসলাম। রাতুল দার চারটের জন্য অপেক্ষা করলাম। উনি অনেক ব্যাস্ততার মাঝেও সময় করে চারট দিলেন।

ডায়েট চারট পাওয়া মাত্রই মেন্টেন শুরু করবো, এরকম ভাবতাম। কিন্তু কাজে আর লাগাতে পারতাম না। চারট এর সাথে অভ্যস্ত হতেও ক দিন সময় লাগে। রাতুল দার কাছ থেকে চারট পেলাম। উনি এত হেল্পফুল। কি চমতকার করে বুঝিয়ে দিলেন, আমার ওয়েট কেনো কমছে না, কি করলে কমবে! সব বল্লেন। চারট হাতে পাওয়ার পর দু দিন করতেই ঈদ, জন্মদিন, ছুটি সব চলে এলো অতএব সব বাদ। খাই আর খাই। ঘুমাই আর ঘুমাই।কি পরিমান চকলেট যে খাইছি। ফলাফল ৪ কেজি ওয়েট গেইন। পুরো মাথা নস্ট। সামনে পূজা। ততদিনে শুকাইতেই হবে। পূজার যে সব আউটফিট আনা হয়েছে সে গুলো এরকম ওজনে পরা যাবেই না। আবার দাদাকে ধরলাম। উনি হাল ধরলেন। চারট দিলেন। একদম নিয়ম মেনে করতেই হবে। চারট দেখে চোখ ছানাবড়া। এত খাবার “! এই।খেয়ে আমি শুকাবো????? এটাও সম্ভব। দিনে ৩ টা ডিম, কলা, রুটি, ওটস সব! বাপেরে। শুরু করলাম। ২০ দিনের মাথায় ওজন মেপে দেখি সারে ৫ কেজি নাই।
জীবনেও এত অবাক হই নাই। আমি ক্রাশ ডায়েট করা মানুষ। জীবনেও বুঝছিই ক্রাশ ডায়েট করবো আর শুকাবো। আবার খাবো আবার ক্রাশ করবো। এই করে করে, প্রচন্ড উইক হতাম। চুল নাই হয়ে যাচ্চে। স্কিন কেমন ম্যার ম্যারা। দাদার দেয়া চারটে অনেক খাবার, যে আমি বছরে ১ টা কলা খাইছি কিনা। সে কিনা দিনে ৩ টা কলা খাচ্ছে!!! মাপ মত খেতাম ২ ঘন্টা পর পর খেতাম। পরিমান মত সব। অদ্ভুত বিষয় খুদা লাগতোই না। ক্রাশ ডায়েটে কেমন মরো মরো হয়ে যেতাম। আর এই ডায়েটে টের ই পাইনি যে আমি ডায়েট করছি। তবে রুটি সারাজীবন এক টার বেশী খেতে পারতাম না। এবার ও তাই করেছি 😛
আমি মাছ পাগল মানুষ। ডায়েটে ছিলো ছোট পিছ। খেতাম মাঝারী পিছ। আর সেটা ধুয়ে নিতাম। চারটের সব কিছু ৮৫% মেন্টেন করেছি।
প্রচুর পানি খেতাম। জিমে ১ লিটার। ডিটক্স দেড় লিটার। আর গ্লাস গুনে পানি খেতাম। ৪ লিটারের বেশী ও হয়ে যেতো মাঝে মাঝে। জিম, বাসায় ফ্রি হ্যান্ড সব করেছি।
ওজন কমানো এটা মাথায় ঢুকিয়ে নিতে হয়। দুনিয়া উল্টিয়ে গেলেও ডায়েট মানতেই হবেই। এর কোন ব্যাত্যয় যেনো না হয়। এই ২০ দিন কোন দাওয়াতে এটেন করিনি
তাও এক বাসায় যেতেই হয়েছে। খাওয়ার জন্য বার বার বলার পর, বল্লাম এক কাপ মিল্ক দ্যান। সর ছাড়া। কাচের গ্লাসে এনে দিলো। সেই বাসার ২ বছরের পিচ্চিও তার ফিডার এনে আমারে কয়। এতাও কাও!!!!
অবশেষে ২০ দিন পর আজ মাপলাম দেখি ৫৭ কেজি। আমি চেস্টা করেছি। তবে Ratul দার হেল্প ছাড়া এটা কোন দিন সম্ভব ছিলো না। নিজেদের হাজারো কাজ বাদে দিয়ে এই গ্রুপে এরা এত সময় দেয়। এত হেল্প করে। আর আমরা এই উপকার টা বাস্তব জীবনে পাই। দাদা, বুঝিয়ে বলতেন। প্রয়োজনে কঠিন ভাবেও বলতেন, যাতে এটা মেন্টেন করতে পারি। দাদাকে দুনিয়ার সব ধন্যবাদ জানালেও তা কম হয়ে যায়। এর পর বলি এক্সারসাইজ এর কথা। Sabbir ভাই এই বিষয়ে অনেক অনেক হেল্প করেছেন। কিভাবে করলে কাজ বেশি হবে। টোনিং ভালো হবে। সব কিছুতে হেল্প করেছেন। কত মূল্যবান সময় নস্ট করে আমাকে বুঝিয়ে বুঝিয়ে বলেছেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ওনার হেল্প পাই, প্রতিটা কমেন্টে।
এছাড়া ও কিউটি শারমিন সুলতানা ক্যাথি আপা গ্রুপে বা গ্রুপের বাইরে সব সময় এত মোটিভেট করতো। যা আমাকে এই পর্যন্ত আসতে অনেক হেল্প করেছে। গ্রুপের সব এডমিন আর মেম্বার রা খুব হেল্পফুল। হতে পারে এটা ভারচুয়াল জগত। কিন্তু এর সফলতা বাস্তব জীবনে পুরো মাত্রায় পেয়ে যাই। গ্রুপ আরও হাজার বছর চলুক। আমরা সবাই আমাদের লক্ষ্য পৌছাই। 😀
এরপর ইচ্ছে ৫৫ তে আসার। তার পর চেস্টা করবো আমার সেই আগের ওজনে ফেরার। প্রেগন্যান্সির আগে ৪৮ ছিলাম। দেখি পারি কিনা। আমারে সব্বাই দোয়া দ্যান 😀 😀 😀
★★★ ছবিটা গত বছরের দুর্গাপুজার আর এবছরের দুর্গা পূজার। আগের বার ৭৬ ছিলাম। এবার ৫৭! গতবছর ফুল পিক্স তুলতাম খুব কম। আর বাকা হয়ে তুলতাম যাতে ইট্টু হইলেও শুকনা লাগে 😛 :-P, এ বছর সোজা হয়েই ছবি তুলি। 😛 😛 😛
♦♦♦ এক এক জনের হেলথ কন্ডিশন এক এক রকম। এক জনের চারট অন্য জনের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। তাই এই চারট চাইবেন না। গ্রুপের ডক পড়ুন। হেল্প হবে।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
23

পাঠকের মতামতঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here