হাড়ের ক্ষয় সমস্যা ও সমাধান

0
4596
হাড়ের ক্ষয় সমস্যা ও সমাধান

ক্যালসিয়াম ও অস্টিওপোরোসিস: হাড়ের ক্ষয়

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরনে ট্যাবলেট নয় পুস্টিকর খাবার!
হাড়ের ক্ষয়রোধে নানা রকমের ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধরা শরীরে হাড়ের জোর ধরে রাখতে বাজারের বিভিন্ন ক্যালসিয়াম বড়ি সেবন করেন নিয়মিত। হাড়ের ক্ষয়রোধে এসব ট্যাবলেট কাজ তো করেই না; বরং তা নতুন করে ডায়রিয়াসহ পাকস্থলীর নানা জটিলতা তৈরি করে।
ক্যালাসিয়াম ট্যাবলেট হাড়ের ফাটল রোধ করে না। বরং মানব দেহের ক্ষতিসাধন করে। অথচ ওষুধ কোম্পানিগুলো চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাজারে ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন ট্যাবলেট বা বড়ি বিক্রি করে যাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষও এসব ওষুধ সেবন করছেন।
ক্যালসিয়াম ঘাটতির সমস্যা থেকে হাড় ক্ষয় হয়ে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষের অধিকাংশই এ সমস্যায় ভুগেন। আবার অনেকের ফেটে যাওয়া হাড় নতুন করে জোড়া লাগানোর কাজেও চিকিৎসকরা ক্যালসিয়ামের পথ্য ব্যবহার করেন।
খুব কম প্রমাণই আছে যে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট মানবদেহের হাড় ক্ষয় কিংবা জোড়া লাগাতে (ফ্র্যাকচার) ভালো কিছু করে।
সাধারণত একজন বয়ষ্ক মানুষের জন্য দিনে ৭০০ এমজি ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবর্তে যদি ক্যালসিয়াম বড়ি সেবন করে ১৫০০ এমজি বা তার উপরে নেওয়া হয়, তবে তা পাকস্থলীর অন্য সমস্যার সৃষ্টি করবেই।
হাড়ের ক্ষয়জনিত বাত রোগের নাম অস্টিও পোরোসিস। ক্যালসিয়াম শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। হাড় ও দাঁত গঠনের কাজে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজন, হাড়ের বোন প্রোটিন দিয়ে ম্যাট্রিক্স তৈরি হয় আর তার ওপরে ক্যালসিয়াম ফসফেটের প্রলেপ পড়ে হাড় শক্ত হয়। ক্যালসিয়াম আমরা পাই খাবার থেকে। পরে তা হাড়ে জমা হয়। অল্প বয়সে হাড়ে ক্যালসিয়াম জমার ব্যাপারটা খুব দ্রুত হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিপোজিশন কমতে থাকে। সে জন্য হাড় মজবুত রাখতে সব সময়ই নিয়ম করে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। ১৬ বছর বয়সী কিশোরীদের দেহে প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম জমা হয়। অথচ একই বয়সের কিশোরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি পুরো দ্বিগুণ। অর্থাত্ প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম জমা হয়। সুতরাং ছেলেদের হাড় মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত। আর হাড়ের ক্ষয়জনিত বাতের ব্যথা মেয়েদেরই বেশি হয়। এ জন্য বয়সের সাথে সাথে ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবিকভাবে দেখা যায় ৬০০ মিলিগ্রামের বেশি গ্রহণ করা হয় না। সে জন্যই হয়তো অস্টিও পোরোসিসের প্রবণতা বাড়ছে।
নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় টাটকা মাছ, দুধ, ফল ও শাকসবজি থাকা প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে আমরা ফাস্টফুড এবং বোনলেস বা হাড়ছাড়া মাছ-গোশত খেতে পছন্দ করি। এ ছাড়া ধূমপান, মদ্যপান, বাড়তি ওজন, দৈহিক পরিশ্রম না করা এগুলোর জন্যই অস্টিও পোরোসিস হয়। ভিটামিন ডি৬-এর অভাব
এবং মেনোপজের পরে হরমোনের তারতম্য ঘটে। এ সময় ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। সুতরাং সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ক্যালসিয়ামের উৎস:ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস দুধ। দুধে রয়েছে ল্যাক্টোজ ও লাইসিন যা ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। দুধ খেতে সমস্যা হলে দুগ্ধজাত যেকোনো খাবার যেমন দই, ছানা খাওয়া যেতে পারে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, আপেল, আমলকী, খেজুর, টমেটো- এগুলোতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। তবে শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই হবে না। ঠিকভাবে শারীরিক পরিশ্রম বা শরীরচর্চা করেও হাড় মজবুত রাখতে হবে। রুখতে হবে অস্টিও পোরোসিসকে। এ ছাড়া মেনোপজের পরে মহিলারা যদি হরমোন রিপ্লেসমেন্ট করান তবে অস্টিও পোরোসিসের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটের চাইতে খাবার থেকে পাওয়া ক্যালসিয়ামের পুষ্টিমূল্য অনেক বেশি।
পরিমিত ক্যলসিয়াম গ্রহণ হাড় মজবুত করে।তবে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম খেলে শরীরের কোন কোন স্থানে ক্যালসিয়াম জমা হতে পারে।এই জমা হওয়া ক্যালসিয়াম কিডনিতে পাথর তৈরী করে থাকে। । এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামান্দ্য ইত্যাদিও হতে পারে। তাই ভিটামিন ‘ডি’-এর পাশাপাশি ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে উৎস হিসেবে ওষুধের চেয়ে খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। যাঁদের ল্যাকটোজ বদহজম আছে, যাঁরা বার্ধক্যজনিত বা অন্যান্য কারণে ক্যালসিয়াম অপ্রতুলতায় ভুগছেন তাঁরা খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন ‘ডি’সহ ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গ্রহণ করতে পারেন।কিন্তুঅধিক ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট সেবন করা অনুচিত।
সুত্রঃ EASY DIET BD Ltd.

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

পাঠকের মতামতঃ