হাইপোথাইরয়েড | ডায়েট চার্ট । এক্সারসাইজ

0
25377

আজকে একটা গুরত্বপুর্ন টপিক নিয়ে আলোচনা করবো।
আজকে টপিক হলো থাইরয়েড। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েড নিয়ে আলোচনা বেশি করা হয়েছে। কারন হাইপোতেই ওয়েট বাড়ে। তাছাড়া, চার্ট + এক্সারসাইজ ও হাইপোথাইরয়েড নিয়েই লিখা হয়েছে।
অনেকদিন ধরে এই পোস্ট নিয়ে অনেকেই অপেক্ষা করেছিলেন। আশা করি তাদের অপেক্ষার অবসান হবে।
কথা না বাড়িয়ে কাজে যাওয়া যাক। বিশাল পোস্ট। যারা থাইরয়েড রুগী তারা মনোযোগ সহকারে পরবেন। আশা করি অনেক সমস্যার সমাধান পাবেন এই পোস্টের মাধ্যমে।

#থাইরয়েড গ্রন্থি কিঃ
——————
থাইরয়েড গ্রন্থি একটি এনড্রোক্রাইন গ্ল্যান্ড। এটি দুটি লোব দিয়ে গঠিত। ২ ধরনের হরমোন নি:সরন করে। এটি মানুষের গলার সামনের দিকে অবস্থিত। দেখতে প্রজাপতিরর মতন। এখান থেকে থাইরয়েড হরমোন তৈরি হয়। T3 & T4 বডিতে মেটাবলিক রেট প্রভাবিত করে। প্রোটিন synthesis করে। T3& T4 হরমোনে Iodire & Throsine উতপন্ন করে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই গ্ল্যান্ডের ওয়েট ২৫ গ্রাম হয়। ৫ সে.মি লম্বা..৩ সে.মি প্রস্থ। ২ সে.মি দৈঘ্য।
রংঃ ব্রাঊনিশ রেড। এখানে অনেক ব্লাড ভাসেলস থাকে। যখন এটা নরমাল অবস্থায় থাকে তখন অনুভব করা যায় না
তবে প্রেগনেন্সিতে সাইজ বেড়ে যায়।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে থাইরয়েড গ্রন্থি। যদি থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিক না থাকে তাহলে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

#প্রকারভেদঃ
———————

সাধারনত থাইরয়েড এর সমস্যা কে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।

=> হাইপোথাইরয়েডিসম (Underactive thyroid ) :থাইরয়েড গ্লান্ডের কম কার্যকারিতা।থাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিসম।এটির কারনেই শরীরে ওজন বেড়ে যায়। সাধারণ জনসংখ্যার প্রায় তিন শতাংশ হাইপোথাইরয়েড।খাবারে আয়োডিনের স্বল্পতা হাইপোথাইরয়েড হবার একটি বড় কারণ।

=> হাইপারথাইরয়েডিসমঃ ( Overactive thyroid ): থাইরয়েড গ্লান্ডের বেশী কার্যকরীতা। থাইরয়েড হরমোন বেশি উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিসম।এটির কারনে শরীরে ওজন কমে যায়।

#লক্ষনঃ
——————-
থাইরয়েডে সমস্যার লক্ষণগুলো কিছুটা অস্পষ্ট থাকে। এই ব্যাপারটা একটু বেশি ইম্পরট্যান্ট। ভালো কর দেখে নিন লক্ষঙ্গুলো। কেননা, শুরুতে এর লক্ষণগুলো অবহেলা করার কারণে পরবর্তিতে এটি বড় আকার ধারণ করে থাকে।
তাহলে দেখা যাক লক্ষন গুলো কি কিঃ

=> অবসাদগ্রস্থ হওয়া:
যখন থাইরয়েড হরমোন ঠিক মত কাজ করে না, এটি শরীরের মেটাবলিজমের উপর প্রভাব ফেলে থাকে, যা অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং আলস্য সৃষ্টি করে। অপরদিকে হরমোন ভারসাম্যহীনতা সমগ্র নার্ভ এর উপর প্রভাব ফেলে থাকে।সাথে অলসতা, ঘুম, ঘুম ভাব হয়।
=>ত্বক খসখসে হয়ে যায়: শরীর এ পানিশূন্যতা হয় আর তার ই ফলশ্রুতি তে ত্বক প্রয়োজনীয় আদ্রতা হারায়,ফলে খোস পাচড়া,চুলকানী,বা যেকোনো চর্মরোগ দ্রুতই এফেক্ট করতে পারে। আর ত্বক কালো ও হয়ে যায়।
=> পা অল্প ফুলে যায়: অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় পায়ে পানি জমে থাকে,এমন মনে হয়।
=> ক্ষুধা মন্দা শুরু হয় :থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি বা কাজ কম করার জন্য অরূচী দেখা দেয়
=> চুল পড়তে শুরু করে: থাইরয়েড হরমোনের সমস্যায়, চুল পড়া একটি সাধারণ লক্ষণ। হাইপো ও হাইপারথাইরয়েডিজম দুই ক্ষেত্রেই হতে পারে কেশ হানি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েড সমস্যা দূর করা গেলে আবারও চুল গজানো শুরু হতে পারে।
=> ওজন অল্প বেড়ে যায়, ৫-৬ কিলো বেড়ে যেতে পারে:ওজন বৃদ্ধি অথবা ওজন হ্রাস
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ইনসুলিন এবং মেটাবলিজমকে প্রভাবিত করে। যা আপনার শরীরের চর্বি জমিয়ে ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। হঠাৎ করে ওজন বৃদ্ধি থাইরয়েডের সমস্যার কারণে হতে পারে। অপরদিকে থাইরয়েড যদি শরীরের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ করতে থাকে, তখন শরীর অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন হারাতে থাকে।
=> ঘুমের সমস্যা: হরমোন (টি৩, টি৪) নিঃসৃত হওয়া নার্ভকে উজ্জীবিত করে যা অনিদ্রার কারণ হয়ে থাকে, এমনটি ধারণা দিয়ে থাকেন a Mayo Clinic endocrinologist এর এমডি Hossein Gharib। অপরদিকে সারা রাত ভাল ঘুম হবার পরেও আপনি যদি সকালে ক্লান্তবোধ করে থাকেন, সেটিও থাইরয়েডের সমস্যার কারণ হতে পারে।
=> স্মৃতিশক্তি কমে যায় : বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে রোগীর স্মরণশক্তি লোপ পায়। স্নায়ু ও মাংসপেশির সমস্যা:
অবসন্নতা বা নার্ভাসনেস, উত্তেজনা, আবেগ প্রবণতা, সাইকোসিস বা মানসিক বিষাদগ্রস্থতা; হাত পা কাঁপা, মাংসপেশি ও চক্ষুপেশির দুর্বলতা, রিফ্লেক্স বেড়ে যাওয়া (এক ধরনের স্নায়ু) এর কারন।
=> মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় : থাইরয়েড হরমোন মস্তিস্কের বিশেষ করে পিটুইটারি, হাইপোথ্যালামাস ও বৃক্কের উপরিভাগ অংশ সমূহে নিয়ন্ত্রন করে।
পিটুইটারি TRH তৈরি করে এবং হাইপোথ্যালমাস TSH তৈরি করে।
যদি সবকিছু ঠিকমতো কাজ করে, তাহলে সঠিক বলাযায়
T3 & T4 হরমোন সঠিক পরিমানে অাছে।
T3 ও T4 হরমোন দুটি শরীরের প্রতিটি কোষের বিপক নিয়ন্ত্রন করে। কিন্ত পুষ্টির ভারসাম্যহীনতার কারনে এই হরমোন দুটির ভারসাম্যের তারতম্য হতে পারে।
ফলে অসহ্য মাথা ব্যাথা, অ্যালার্জি সংক্রমণ এবং অবসাদ দেখা দিতে পারে।যা থেকে পরবর্তিতে,বিরক্তি,অস্থিরতা আর মেজাজ খিটখিটে হতে পারে।
=> কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হয়: যেহেতু থাইরয়েড হরমোন আমাদের শরীরের বিপাকে সাহায্য করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কাজকর্ম করতে সাহায্য করে, সেজন্য যখন থাইরয়েড হরমোন কম থাকবে বা হাইপোথাইরয়েডিজম হবে, সে ক্ষেত্রে সব কাজকর্ম ধীর গতির হয়ে যাবে। ধীর গতির হয়ে গেলে রোগী দুর্বল হবে। রোগীর ওজন বেড়ে যাবে। কোষ্টকাঠিন্য হবে। পালস রেট কমে যাবে। যদি হাইপো হয়, কাজ কমে যায় তাহলে এই ধরনের সমস্যা থাকবে।

আর যদি কাজ বেড়ে যায়, যেটা হাইপার থাইরয়েডিজম সেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি বেশি বেশি কাজ করবে, সব পদ্ধতির কাজগুলো বেড়ে যাবে। রোগী তখন অস্থির হয়ে যাবে। তার পালস রেট বেড়ে যাবে। পালপিটেশন হবে, হাত কাঁপবে। তার বাউয়েল মুভমেন্ট বেড়ে যাবে। বারেবারে পায়খানা হবে। আর তার ওজন কমে যাবে তবে ক্ষুধা বেশি থাকবে। গরম লাগবে, অস্থির ও দুর্বল লাগবে।
=> ব্লাড প্রেশার বাড়তে পারে: হাইপোথাইরয়েডিজম এর রোগী হাইপারটেনশান এ ভোগে।হরমোন নিস্বরণের হার কম হওয়ায় হার্টবীট স্লো হয় তাতে রক্ত চলাচল এ বাঁধার ও সৃষ্টি হয় আবার রক্ত নালীর স্বাভাবিক প্রসারন বাঁধাগ্রস্থ হয়। উভয়ই উচ্চরক্তচাপ এর জন্য দায়ী।
=> বন্ধ্যাত্বর সমস্যা হতে পারে: এমেরিকার একটি সার্ভেতে মহিলাদের কে আহবান করা হয়েছে ৩৫ বছরের পর থেকেই যেনো নিয়মিত থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করেন তারা।
থাইরয়েড এর দীর্ঘমেয়াদী জটিলতায় অনেক মহিলা বন্ধাত্বের স্বীকার হোন।
=> গর্ভধারণকালে গর্ভপাত হতে পারে: গর্ভবতী মহিলাদের এমন সব শরীরবৃত্তিক পরিবর্তন হয় যা প্রভাব ফেলে থাইরয়েডের উপর। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় কিছু হরমোন যেমন ইস্ট্রোজেনের মান উচুতে উঠে, যা রক্তে থাইরয়েড হরমোন মানকে দেয় বদলে।
হাইপো থাইরয়েডের রোগীর গর্ভের শিশু মারা যেতে পারে অতিরিক্ত ররক্তক্ষরণ হয়ে,বা অনেক সময় অপরিপক্ক বা রোগাক্রান্ত শিশুর জন্ম হয়।
=> কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজমে শিশুর ব্রেনের বিকাশ হয়না। জন্মগতভাবেই যদি বাচ্চার থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হয়, অথবা ভুলভাবে তৈরি হয়, ঠিক মতো বৃদ্ধি না পায়, অথবা তৈরি হলেও ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে থাইরয়েড হরমোন তৈরি হবে না। সে ক্ষেত্রে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হবে।
=> শীত শীত ভাব দেখা যায়:ঠাণ্ডা অনুভূত হওয়া অথবা তাপ সহ্য করতে না পারা
অতিরিক্ত থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত হওয়ার কারণে তাপ সহ্য করার ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, সবসময় ঠান্ডা অনুভূত হওয়াও থাইর‍য়েড সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
=> পিরিয়ডের সমস্যা হতে পারে: হাইপো কিংবা হাইপার থাইরয়েডিজম দুই ক্ষেত্রেই মাসিক
অনিয়মিত হয়।
=> প্রচন্ড গরম লাগে: থাইরয়েড হরমোন আমাদের দৈহিক শক্তিবলের নিয়নত্রক।অধিক মাত্রায় হরমোন এর নিস্বরণ এ শরীর দ্রুত গরম হয়ে মাত্রারিক্ত ঘাম হয় রোগীর।
=> বুক ধড়ফড় করে : যদি আপনার হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হয় তাহলে পুরো শরীর একটা
নিয়মানুবর্তিতার সমন্বয়হীনতায় ভুগবে।
=> কোলেস্টেরল মাত্রা বৃদ্ধি :
রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা বৃদ্ধি হলে হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।
এছাড়া এক নাগাড়ে কোষ্ঠকাঠিন্য, রুক্ষ ত্বক, হৃৎস্পন্দনের হার বৃদ্ধি ইত্যাদি থাইরয়েডের
=> হার্টের সমস্যা হতে পারে: একজন স্বাভাবিক মানুষের চাইতে হাইপারথাইরয়েডিজম এ ভোগা ব্যাক্তির থাইরয়েড গ্লান্ড হতে অধিক পরিমাণ এ থাইরক্সিন হরমোন নিঃস্বরণ ঘটে,ফলে হৃদকম্পন এর তারতম্য দেখা যায়।
যাতে কিনা হার্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বুক ধড়ফড় , হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অ্যাট্রিয়ার ফিব্রিলেশন , হার্ট ফেইলিওর, এনজাইনা বা বুক ব্যথা।
=> হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা শুরু হয়: কিছু কিছু ওষুধের জন্য যেমন স্টেরয়েড অনেক দিন ধরে নিলে, পুরনো বা ক্রনিক কিডনি, থাইরয়েড বা প্যারা থাইরয়েড সমস্যার জন্যও হাড় ক্ষয় হয়।
=> চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসে।

#কারণঃ
—————–
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি যথেস্ট পরিমানে হরমোন তৈরী করতে পারেনা ;আমাদের শরীরের রাসায়নিক বিক্রিয়াতে বিঘ্ন ঘটে। হাইপোথাইরয়েডিজম তখনই হয় যখন আপনার থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরী করতে পারেনা। এর অনেক কারন রয়েছে যেমন:

অটোইমিউন ডিজিস ( auto immune disease) : পার্টিকুলার প্রদাহজনিত ডিসওর্ডার (inflammatory disorder) যাকে আমরা জানি Hashimoto thyroiditis নামে। ( সবচাইতে কমন কারন). অটো ইমিউনো ডিজঅর্ডার হয় যখন আপনার ইমিউন সিস্টেম যেই এন্টিবায়োটিক তৈরী করে সেটা আপনার বডি টিসু কে আক্রমণ করে। কখনো কখনো এ প্রসেস আপনার থাইরয়েড গ্রন্থিকে ইনভল্ব করে। বিক্জ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনা কেনো শরীরে তৈরী হওয়া এন্টিবায়োটিক আপনার টিসুকে আক্রমণ করে। কেউ কেউ মনে করেন ব্যাকটেরিয়া /ভাইরাস হলো ট্রিগারস জোনআবার কেউ কেউ ভাবে এটা জেনেটিক কারন। আর মোস্ট লাইকলি অটো ইমিউন ডিজিজ হয় একের অধিক কারন থেকে।

#হাইপোথাইরয়েডিজম কারন্সমুহ –
=> কনজিনিটাল ডিজিস: কিছু সংখ্যক শিশুরা জন্মগত ভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিতে ডিফেক্ট নিয়ে জন্মায় আবার কারো কারো জন্মগত ভাবেই এই গ্রন্থটি অনুপস্থিত থাকে।
=> পিটুইটারী ডিসওর্ডার : অন্যগুলোর চেয়ে এটা এক্টু রেয়ার কারন। এটা হয়ে থাকে যদি পিটুইটারী গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমান TSH( থাইরয়েড স্টিমুলেলেটিং হরমোন তৈরী করতে না পারে
=> বিনাইন পিটুইটারী টিউমার
=> গর্ভাবস্থা: অনেক মহিলাদের গর্ভকালীন সময় / গর্ভাবস্থার পর ( পোস্ট পার্টাম হাইপোথাইরয়েডিজম) হাইপোথাইরয়েডিজম ডেভেলপ্ড হয়। এবং এক্ষেত্রে যদি চিকিত্সা না করা হয় তাহলেমিসক্যারেজ ,প্রিম্যাচিউর ডেলিভারী, প্রি এক্লাম্পসিয়া হবার রিস্ক থাকে।
=> আয়োডিনের অভাব: আয়োডিন হচ্ছে ট্রেসড মিনারেল সেটা থাইরয়েড হরমোন তৈরী করবার অন্যতম উপাদান। বেশী মাত্রা/ কম মাত্রা আয়োডিন নিলে হাইপোথাইরয়েডিজম ডেভেলপ করে।

#হাইপার থাইরয়েডিমের কারন সমুহ:
অনেক রকম ভ্যারাইটি আছে যেসব কন্ডিশনগুলোর কারনে হাইপার থাইরয়েডিজম হতে পারে।
গ্রেভস ডিজিস (Graves disease) সবচাইতে কমন কারন হাইপারথাইরয়েডিজমের। এটা এক রকম অটোইমিউন ডিসওর্ডার (autoimmune disorder), এটা এন্টিবডিস গুলোকে স্টিমিউলেট করে যাতে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড অতিরিক্ত হরমোন সিক্রেট করে।এটা পুরুষদের চাইতে মহিলাদের বেশী হয়ে থাকে। এটা ফযামিলিগত কারনে ও হতে পারে(জেনেটিক লিংক এর জন্য)আপনার ডাক্তার কে অবশ্যই বলতে হবে পরিবারে যদি কারো এই ডিজিস টি থেকে থাকে যাতে উনি আপনার প্রপার চিকিত্সা করতে পারেন।
অন্যান্য কারনগুলোর মধ্যে আছে :
=> মাত্রাতিরিক্ত আয়োডিন নেয়া ( T3 &T4 এর প্রধান উপকরন)
=> থাইরয়ডাইটিস ( থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এ ইনফ্লামেশন জনিত প্রদাহ) যেটার কারনে T3এবংT4 গ্ল্যান্ড থেকে লীক আউট হয়।
=> গর্ভাশয় এবং অন্ডোকোষ এর টিউমার ( tumours of ovaries and testis)
=> থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এবং পিটুইটারী গ্ল্যান্ড এর বিনাইন টিউমার
=> মেডিকেশন অথবা ডায়েটারী সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমেঅতিরিক্ত পরিমানে টেট্রা আয়োডো থাইরোনিন নেয়া হলে

#রোগ নির্নয় ও চিকিতসাঃ
—————

থাইরয়েড হরমোন টেস্টের জন্যে স্বাধারনত TSH,T4,T3, FT3, FT4 ব্লাড টেস্ট করলেই হয়।

হাইপার থাইরয়েড এর চিকিৎসা:
হাইপার থাইরয়েডের চিকিতসা পদ্দতি ৩ রকম,
১) রেডিওএক্টিভ আইয়ডিড চিকিতসা(Radioactive iodide treatment)
২) এন্টি-থাইরয়েড মেডিকেশান (Anti-thyroid medication)
৩) সার্জারি (Surgery)

হাইপো থাইরয়েড:
কারন যাই হোক, চিকিৎসা হলো রোগীকে থাইরয়েড হরমোন (থাইরক্সিন বা T4) দেওয়া। বয়স ও কারন ভেদে ডোজের পরিমাণ নির্ভর করবে।
৬-১০ সপ্তাহ পর ডোজের পরমান পরিবর্তন হতে পারে আর টা অবশ্যই ডক্তারের পরামর্শে। যদি থাইরয়েডের লক্ষন দেখে মনে হয় বেশিরভাগয় আপনার সাথে মিলে গেছে তাহলে সময় নষ্ট না করে একজন এন্ড্রোক্রিনোলোজিস্ট(হরমোন বিশেষজ্ঞ) দেখিয়ে নিবেন।

#কি কি খাবার খাবেনঃ
—————-

=> বেশি করে ভিটামিন এ গ্রহণ করতে হবে
থাইরয়েড এর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল বেশি বেশি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। এর জন্য প্রচুর গাজর, হলুদ ও গাঢ় সবুজ শাকসবজি ও ডিম খেতে হবে।

=> নারিকেল তেল
নারিকেল তেলে যে ফ্যাটি এসিড আছে তা থাইরয়েড এর কাজকে ত্বরান্বিত করে, এছাড়াও বিপাকে সহায়তা করে ও এনার্জি প্রদান করে। এটা শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে যা হাইপো থাইরয়েডিজম এর রোগী দের জন্য ভালো।
– রান্নার জন্য এক্সট্রা ভার্জিন অর্গানিক নারিকেল তেল ব্যবহার করুন।
–কালের নাস্তার সময় দুধের সাথে ২ চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে খেতে পারেন।

=> আপেল সাইডার ভিনেগার
থাইরয়েড-এর সমস্যায় আপেল সিডার ভিনেগার অনেক কার্যকরী। এটা এসিড ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে, শরীর কে বিষ মুক্ত করে, ওজন কমতে সাহায্য করে এবং হরমোনের নিঃসরণে সহায়তা করে।
– ১ গ্লাস উষ্ণ পানিতে ২ চামচ অর্গানিক আপেল সাইডার ভিনেগার মিশান
– এই মিশ্রণটি প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করুন

=> দই
ভিটামিন-ডি থাকার কারণে দই থাইরয়েড স্বাস্থ্যের জন্য আরেকটি ভালো খাবার। ভিটামিন-ডি-এর ঘাটতিতে হাসহিমোটোস রোগ হয়। এটি হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি বড় কারণ।

=> স্যামন মাছ
স্যামন মাছ থাইরয়েড স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে বেশ ভালো খাবার। এর মধ্যে আছে প্রদাহরোধী উপাদান। আর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকার কারণে স্যামন মাছ অনেক উপকারী।

=> বাদামি ভাত
কার্বোহাইড্রেট সরাসরি থাইরয়েডের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। তাই স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট খাওয়া জরুরি। এ জন্য লাল চালের ভাত বা বাদামি ভাত খেতে পারেন। এটি হজমের সমস্যা সমাধান করবে। অনেক সময় থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে হজমের সমস্যা হয়। তবে থাইরয়েড ওষুধ খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

=> ডিম
ডিম তিনটি পুষ্টির খুব ভালো উৎস—টাইরোসিন, আয়োডিন ও সেলেনিয়াম। এগুলোর অভাবে থাইরয়েডে সমস্যা হয়। ডিম খেলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম ভালোভাবে হয়।

***জেনে নিন কোন খাবার থাইরয়েড গ্রন্থিকে সক্রিয় রেখে আপনাকে সুস্থ রাখতে পারে:
আয়োডিন : সামুদ্রিক খাবার, আয়োডিনযুক্ত সামুদ্রিক লবণ, ডিম, মাশরুম, পালংশাক, রসুন এসব খাবারে আয়োডিন থাকে।
সেলেনিয়াম : মাশরুম, গরুর মাংস, সয়াবিন, সূর্যমুখীর বীজ, টুনা মাছ এসবে পাবেন সেলেনিয়াম।
জিংক : গরুর মাংস, টার্কি, ভেড়ার মাংস, সয়াবিন, আদার মূল, সূর্যমুখীর বীজ, বাদামে থাকে জিংক।
কপার : গরুর মাংস, ডার্ক চকোলেট, গলদা চিংড়ি, টমেটোর চাটনি, বাদাম, শিমে আছে কপার।
আয়রন : সামুদ্রিক মাছ, সয়াবিন, কুমড়োর বিচি, পালংশাক, ডালে থাকে আয়রন।
ভিটামিন এ : কলিজা, মিষ্টি আলু, পালংশাক, গাজর এসব খেতে হবে ভিটামিন এ পেতে হলে।
ভিটামিন বি টু : বাদাম, গম, লাল চাল, মাশরুম, ডিমের কুসুমে পাবেন ভিটামিন বি টু।
ভিটামিন বি থ্রি : চাল ও গমের খোসা, কলিজা, খোসাসহ চিনা বাদাম এসবে আছে ভিটামিন বি থ্রি।
ভিটামিন বি সিক্স : সূর্যমুখী বীজ, গম, কলিজা, শিম, লাল চাল, কলায় আছে এই ভিটামিন।
ভিটামিন সি : পেয়ারা, পেঁপে, মরিচ, লেবু, স্ট্রবেরি, ফুলকপিতে আছে ভিটামিন সি।
ভিটামিন ই : বাদাম, সয়াবিন, শিম, কলিজা, সবুজ শাকসবজি খেতে হবে ভিটামিন ই পেতে হলে।
থাইরয়েড গ্রন্থিকে সক্রিয় ও সতেজ রেখে শরীরটাকে সুস্থ রাখতে হলে আপনার খাদ্যতালিকায় ওপরের খাবারগুলোকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে।

৭) কি কি খাবার খাবেন নাঃ
———————–

যদি আপনি থাইরোয়েড এ আক্রান্ত রোগী হয়ে থাকেন, তাহলে যে খাবারগুলোকে চোখ বন্ধ করে বিদায় দিতে হবে তা হল :

১. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া!!
২. লাল মাংস যেমন গরু, খাসি ইত্যাদি!!
৩. ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, পাতাকপি, ওলকপি,
মূলা, শালগম!!
৪. সরিষা!!
৫. বাদাম!!
৬. মিষ্টি ও মিষ্টিজাত দ্রব্য!!
৭. সাদা চালের ভাত অথবা সাদা আটা বা অন্যান্য কিছু!!
৮. সাদা পাউরুটি!!
৯. মধু!!
১০. শুকনো ফল!!
১১. সাদা চিনি!!
১২. কোমল পানীয়!!
১৩. সয়া সস!!
১৪. চা, কফি!!
১৫. সয়া দুধ!!
১৬. ক্যাফেইন আছে এমন কোন পানীয়!!
১৭. মিষ্টি আলু!!
১৮. পাকা কলা!!
১৯. সজনা!!
২০. ম্যাপেল সিরাপ!!

সর্বসেষ প্যাকেটজাত বা প্রসেসড ফুড টাইপ যেকোন খাবার বাদ দিতে হবে।

#ডায়েট + এক্সারসাইজঃ
—————–

ডায়েট + এক্সারসাইজঃ
সময়কালঃ ৩ মাস।
——————-

{**সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে ১ গ্লাস কুসুম কোমল গরম পানিতে ১ চায়ের চামুচ ফ্যাক্সসিড পাওডার + ১ চায়ের চামুচ দারুচিনি পাওডার গুলিয়ে খাবেন। এরপর ৩০- ৪৫ মিনিট হাটাহাটি/দৌড়ানো/বা অন্য কোন এক্সারসাইজ করে নিবেন।এরপর এসে সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে নিবেন। }

সকাল (৮): ৫-৬ চায়ের চামুচ ওটস খিচুরি + হাপ কাপ সবজি + ১ টি ডিম সেদ্ধ (কুসুমসহ ৫ দিন বাকি ২ দিন কুসুম ছাড়া) + গ্রীন টি

মধ্য সকাল (১১): ১ টা ছোট কলা/কমলা/সবুজ আপেল + ৫ টা ওয়ালনাট(আখ্রোট)

দুপুরঃ(২): ১ কাপ ভাত//২ টা রুটি + ১ টুকরো ছোট মাছ/ ২ টুকরো চর্বিছাড়া মাংস(চিকেন) + ১ কাপ সবুজ শাকশব্জি + কাঁচা সালাদ (শশা+টোমেটো) + গ্রীন টি

{** দুপুর (২) টার খাবারের ২ ঘন্টা পর ১ ঘণ্টা হাটবেন বা দৌড়াবেন বা কার্ডিও করবেন। বা অন্য কোন এক্সারসাইজ করবেন। এরপর এসে বিকেল (৫) টার মিল খাবেন।** }

বিকেলঃ(৫): ১ গ্লাস স্মুদি( টক দই ৫ চায়ের চামুচ + ১ টা সবুজ আপেল/কমলা) + ১ টি ডিম সেদ্ধ( কুসুম ছাড়া) + ৮ টি কাট বাদাম(আমন্ড)/১ চায়ের চামুচ পিনাট বাটার

রাত(৮): ২ টুকরো মাছ/ ৪ টুকরো চর্বিছাড়া মাংস(চিকেন) + ডাল (হাপ কাপ) + ১ কাপ সবুজ সবজি।

#পরামর্শঃ (যা অবশ্যই মেনে চলবেন)
——————–

=> ১ গ্লাস পানিতে ১ চায়ের চামুচ আপেল সিডার ভিনেগার(ACV) দুপুর(২) খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে খাবেন। (স্ট্র দিয়ে খাবেন)
=> ভাত খেলে লাল চালের ভাত খেতে হবে। ভাতের পরিমান ১ কাপ = (১২০ মিলি) ।
=> লাল আটার রুটি খেতে হবে।
=>কি কি খাওয়া যাবে আর কি কি খাওয়া যাবেনা এই ২ টা পার্ট ভালো করে পরে ফেলুন।
=> অলিভ অয়েল খাবেন। সবজি ওলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করবেন।
=> ১ গ্লাস ২৫০ মিলি হিসেব করবেন।
=> ৩-৪ লিটার পানি খাবেন।(প্রতিটা মিলের ৩০ মিনিট আগে ২ গ্লাস করে পানি খাবেন)
=> ১৪ দিন পর ওজন মাপাবেন। বারবার বা ২ দিন পরপর মাপাবেন না। (ওজন মেপে জানাবেন)
=> ডায়েট শুরু করার আগে ওজন মেপে তারপর শুরু করবেন।
=> রেগুলার ৬-৯ ঘণ্টা ঘুমাবেন। টানা ৬-৯ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করবেন।
=> (সকাল + সন্ধ্যা) দুবেলা হাটবেন/দৌড়াবেন/সাইকেল/সাঁতার এইসব করবেন। কার্ডিও + ওয়েট লিফটিংও করা যাবে। এক্সারসাইজ বা ওয়ার্কাউট ছাড়া হাইপোথাইরয়েড রুগীদের ওজন কমানো একটু কস্টসাধ্য। তাই নিয়মিত আপনাকে এক্সারসাইজ করে যেতেই হবে। চার্টের মধ্যে যেভাবে বলেছি সেভাবে হাটবেন।
=> দুপুর এবং রাতে ভারী খাবার খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর ১৫-২০ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাটবেন।
—————

সর্বপরি একটা কথা না বললেই নয়। সেটা হলো এইখানে থাইরডের সব বেসিক ব্যাপারগুলো নিয়েই লিখা হয়েছে। কারণ বা লক্ষন দেখে চিন্তা করার কোন কারণ নেই। যদি খুব বেশি চিন্তিত থাকেন তবে কোন এন্ড্রোক্রিনোলজিস্ট দেখিয়ে নিবেন। মেডিসিন + ডায়েট + এক্সারসাইজ করলে এই রোগ তেমন কোন সমস্যা হয়না।
কারো কোন বিষয়ে জানতে চাইলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। চেষ্টা করবো জানাতে। যারা অলরেডি থায়রয়েড চার্ট পেয়ে গেছেন তারা এই চার্ট ফলো করবেন না। যারা আমাকে ইনবক্স করে পায়নি তারাই ফলো করবেন। ফলো করার ১৪ দিন পর ওজন কমে আর যদি সুস্থ থাকেন তবেই চার্ট ৩ মাস পর্জন্ত চালিয়ে যাবেন। চাইলে চার্ট কপি করে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিতে পারেন। যদি থাইরডের সাথে ডায়বেটিক থাকে তাহলে চার্টের সাথে মেডিসিন ডোজ মিলিয়ে নিবেন। ৭ দিন পর ব্লাড সুগার টেস্ট করলেই বুঝতে পারবেন।

#BeFit #BeYou #BeSmart #Behappy
#There Is Nothing Impossible To Him Who Will Try.

এই পোস্ট বানাতে যারা যারা হেল্প করেছে তাদের নাম আমি নিচে দিয়ে দিলাম।
Yeas Min
Dr-Mahshina Khan Moonmun
Mukta Zaman
অনন্তা বাসির অনন্তা
প্রতিভা প্রিয়াংকা
Rimjhim Ayesha
Tanjiba Afroj
Tahmina Ahmed Banee
Meghbalika Sna
Sumaiya Karim Oyshi
Snigdha Rani Shil

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
16110121

পাঠকের মতামতঃ