সাঁতার !!

0
1981

ক্যালরির হিসেবঃ ১ ঘন্টা সাতার কাটলে ৬০০ থেকে ৮০০ ক্যালরি বার্ন হয়।

সাতার কাটার উপকারিতাঃ

* সাঁতার কাটলে শরীরের সব পেশির উপকার হয়। কাঁধ, পিঠ, কোমর, পা, নিতম্ব এবং নিম্নাংশের কোনো অংশই বাদ পড়ে না।
* পানি সব দিক থেকে বাতাসের চেয়ে ১২ গুণ বেশি বাধা দিতে পারে বলে তা শারীরিক সামর্থ্য বাড়ে।
* নিয়মিত সাঁতার কাটলে ফুসফুস ও হূদ্যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ে।
* একজন সাঁতারুর অকালমৃত্যুর আশঙ্কা কর্মহীন ব্যক্তির অর্ধেক।
* যদি নিয়মিত সাঁতার কাটেন তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হূদেরাগ ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক ব্যাধির ৪। পেশির দক্ষতা ও শক্তি বাড়ায়, সন্ধি ও লিগামেন্টের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে।
* আর্থ্রাইটিস ও স্পনডালাইটিসের রোগীদের জন্য সাঁতার একটি কার্যকর ব্যায়াম।
* অ্যাংকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিস নামের মেরুদণ্ডের সমস্যা উত্তরণে সাঁতার রীতিমতো উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাব্যবস্থা।
* সাঁতার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বা শক্তি বাড়ায়।
* নিয়মিত সাঁতার কাটলে ফুসফুসের বাতাস ধরা- ছাড়ার দক্ষতা দুটোই বাড়ে।
* শিশুদের হাঁপানি রোগীদের উন্নতি হয়।
* ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার অভ্যাসও যায় কমে। l
* মস্তিষ্কের হিপোক্যামপাস এলাকার স্নায়ু উজ্জীবিত হয়।ফলে মানসিক চাপ কমে।
* মন-মেজাজ ভালো হয়, বিষণ্নতা কমে।

সাঁতার শুধু দুর্ঘটনায় জীবন বাঁচানোর জন্যই নয়, সাঁতারের অনেক উপকারী দিকও রয়েছে। সাঁতার শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সাঁতার মেদভুঁড়ি কমাতে, ও মানসিক প্রশান্তি এনে দিতেও সাহায্য করে। এটি একটি ভালো শারীরিক ব্যায়াম। নিয়মিত সাঁতার কাটলে হাঁটার মতো পরিশ্রমও হবে। এছাড়া শরীরের কলেস্ট্ররেল দ্রুত কমাতে চাইলে সাঁতারের বিকল্প নেই।
একেকটি সপ্তাহ পেরোবে আর আপনি নিজের শরীরে বাড়তি শক্তি-সামর্থ্য অনুভব করতে পারবেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতি হওয়ার কারণে এই ব্যায়ামে শরীরের কোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি নেই। বরং দৌড়ানোর চেয়ে সাঁতার কাটাকে আপনার সহজও মনে হতে পারে। সাঁতারে অভ্যস্ত অনেকেই বলেছেন, অন্যান্য ব্যায়ামকে তাঁদের যন্ত্রণাকর মনে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক রবার্ট এ রবার্জস বলছেন, আর্থ্রাইটিস, হাড় ও পেশিতন্তুর বিভিন্ন রোগ যাঁদের আছে, সাঁতার কাটলে তাঁদের শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি নেই। ব্যায়ামজনিত শ্বাসকষ্ট যাঁদের হয়, তাঁরাও নির্ভয়ে সাঁতার কাটতে পারেন। পানির প্লবতার কারণে মানুষ জলাশয়ে ভেসে থাকতে পারে। স্থলভূমিতে শারীরিক ব্যায়াম করলে অস্থিসন্ধি ও নাজুক হাড়ে চোট লাগতে পারে। কিন্তু সাঁতারে সে রকম হওয়ার আশঙ্কা প্রায় নেই। কোমর পর্যন্ত নিমজ্জিত অবস্থায় আমাদের শরীরকে তার মোট ওজনের ঠিক ৫০ শতাংশ বহন করতে হয়। বুকসমান পানিতে ডুবে থাকলে শরীরকে আরও হালকা লাগে, কারণ তখন মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ওজন বইতে হয়। আর গলাসমান পানিতে ভেসে থাকলে শরীরের মাত্র ১০ শতাংশ ওজন বইতে হয়। ক্রীড়াবিদেরা অনেক সময় শরীরের অন্যান্য স্থানের আঘাত থাকা অবস্থায় ব্যায়াম অব্যাহত রাখার জন্য সাঁতারকে বেছে নেন। আর্থ্রাইটিস এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত লোকজনও নিজেদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাঁতার কাটতে পারেন। পাশাপাশি তাঁদের শারীরিক ব্যথা কমানো এবং নমনীয়তা বৃদ্ধির জন্যও সহায়ক হতে পারে সাঁতার।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাঁতার কাটলে শরীরের সব পেশির উপকার হয়। কাঁধ, পিঠ, কোমর, পা, নিতম্ব এবং নিম্নাংশের কোনো অংশই বাদ পড়ে না। আর পানি সব দিক থেকে বাতাসের চেয়ে ১২ গুণ বেশি বাধা দিতে পারে বলে তা মানুষের শারীরিক সামর্থ্য বাড়াতে সত্যিই বেশ সহায়ক। ফলে এই ব্যায়াম করলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
কিন্তু সাঁতার কাটলে কি ওজন কমে? ব্যাপারটা নির্ভর করছে সাঁতারে কতটা ক্যালরি খরচ হয়, তার ওপর। গবেষকদের অনেকে মনে করেন, সাঁতার কেটে ওজন কমানোর কাজটা কঠিন। কারণ, এতে বিপাক প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা কমে যায়। আর তাতে শরীরের ক্যালরি খরচ হওয়ার হার স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়। তবে অন্যান্য ব্যায়ামের সঙ্গে নিয়ম মেনে কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ায় সাঁতার কাটলে ওজন কমানো সম্ভব। সাঁতার কেটে ওজন কমানোর দৃষ্টান্ত যে একেবারেই নেই, তা নয়।যদি নতুন করে সাঁতার শিখতে চান, তাহলে কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করুন। শুরুতে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হবে। প্রথমে টানা ১০ মিনিট, পরে সেই সময় বাড়িয়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত করা যেতে পারে। সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচবার সাঁতার কাটতে হবে। হতাশ হওয়া চলবে না। বিভিন্ন ভঙ্গি ও কৌশলের সাঁতার শিখে নিন। তারপর নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার পালা। আর সাঁতার কাটার সময় হালকা ও আরামদায়ক পোশাক ব্যবহার করতে হবে। সূত্র: ওয়েবএমডি

সঠিক সাঁতার কাটার নিয়মঃ

অনেকেই দাপাদাপি করে ৫-৭ মিনিট সাঁতার কেটেই হাঁপাতে থাকে, কিন্তু সেটা সঠিক নিয়ম না। সঠিকভাবে সাঁতার শিখলে আপনি একটানা অনেকসময় ধরে সাঁতার কাটতে পারবেন। প্রতিদিন সাঁতার কাটার প্র্যাকটিস থাকলে আপনিও এক থেকে দু’ মাইল সাঁতার কেটে তীরে নিয়ে আসতে পরেন জীবনতরী।

• নাকসহ মাথা পানিতে ডুবিয়ে সাঁতার কাটতে হবে।
• যে কেউ চাইলে ৩০ সেকেন্ড দম বন্ধ রাখতে পারেন, আর ৩ সেকেন্ডে বুক ফুলিয়ে নিঃশ্বাস নিতে পারেন। তার মানে, ২ মিনিটে ২ বার নিঃশ্বাস নিলেই হলো।
• যতক্ষণ দম বন্ধ থাকে ততোক্ষণ মানুষ কোনো চেষ্টা ছাড়াই পানিতে ভেসে থাকতে পারে, হাত পা নাড়ানোর কোনো দরকার নেই। এ কথাটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে।
• ৩০ সেকেন্ড পর নিঃশ্বাস নেবার দরকার হলে শুধু সেই সময়ে হাত নেড়ে পানিতে মৃদু ধাক্কা দিয়ে ঘাড় কাত করে, মাথার বেশিরভাগটা পানির নিচে থাকা অবস্থায়, ঠোঁট দুটো শুধু পানির ওপরে এনে নিঃশ্বাস নিতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিঃশ্বাস নিয়েই ফের মাথাকে পানির মধ্যে ডুবিয়ে ফেলতে হবে। এই নিঃশ্বাস নেবার টেকনিকটা প্র্যাকটিস করতে হবে।
• সাঁতার কাটা অবস্থায় এগিয়ে যাবার জন্য হাত ও পা দুটোই একসঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। পায়ের টেকনিকটা জরুরি। পা ডুবে থাকলে শরীর বাঁকা হয়ে পানির সঙ্গে বাধা তৈরি করে এবং সামনে এগোনোর গতি কম হয়। তবে এটাও ২-৩ সপ্তাহ প্র্যাকটিস করলে আয়ত্তে আনা সম্ভব।
• পানিতে মাথা ডোবানো অবস্থায় মানুষ আতঙ্ক বোধ করতে থাকে, তাতে দ্রুত দম ফুরিয়ে যায়। তখন নিজেকে শান্ত রাখতে হবে এবং আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আর এর ফলে ঘন ঘন দম নিতে হবে না।
• সাঁতারের চশমা থাকলে ভালো হয়। যেকোনো পানিতে ট্রাভেলে যাবার সময় ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে একটা চশমা কিনে নিতে পারেন।
• পুরোপুরি সাঁতার শেখার আগে কেউ সাগর বা নদীতে নামতে চাইলে, প্লাস্টিকের লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে রাখা ভালো।

কার্যকরী ২ টা সাতারের নাম ও নিয়মঃ

১) চিৎ সাঁতারের নিয়ম বা কলাকৌশল :- চিৎ অবস্থায় শরীর পানির উপর থাকবে। পর্যায়ক্রমে ডান ও বাম হাত দিয়ে পানি সামনে থেকে পিছনে টেনে এবং পর্যায়ক্রমে ডান ও বাম পা দিয়ে পানি পিছনে ধাক্কা দিয়ে শরীর সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে এ সাঁতার দেওয়া হয়।
পানির উপরে শরীরের অবস্থান : গোটা শরীর পানির উপরিভাগের সামান্য নিচে চিৎ অবস্থায় সমান্তরাল ভাবে রাখবে। বালিশে মাথা রাখার ন্যায় একটু উঁচু করে মাথা পানির উপর রাখতে হবে। কান পানির নিচেই থাকবে। চোখ উপর দিকে বা একটু পায়ের পাতার দিকে ফিরিয়ে রাখতে হবে। পায়ের আঙ্গুল শুধু পানির উপরিভাগ ভাঙ্গবে। কাঁধ পানির উপরিভাগ বরাবর থাকবে। কোমরের উপর অংশ নিচের অংশের চেয়ে একটু উঁচু করা থাকবে।

(২)বুক সাঁতারের নিয়ম বা কলাকৌশল :- উপুড় হয়ে বা বুক পানির উপর রেখে দু’হাত এক সাথে মাথা বরাবর পানির ভিতর দিয়ে সামনে নিয়ে দু’হাতের তালুতে পানি আটকিয়ে পিছন দিকে টেনে এবং দু’পা হাঁটু বরাবর ভাঁজ করে ব্যাঙের মত দু’পায়ের পাতা দিয়ে পিছনে লাথি মেরে শরীর সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পদ্ধতিকে বুক সাঁতার বলা হয়।
পানির উপরে শরীরের অবস্থান : উপুড় অবস্থায় শরীর পানির উপরিভাগের সমান্তরাল করে রাখতে হবে। তবে পা মাথার চেয়ে সামান্য নিচু করে রাখবে। দৃষ্টি পানির উপর দিয়ে বা উপরিভাগের একটু নিচ দিয়ে সামনের দিকে রাখবে। হাত ও পা সঞ্চালন ক্রিয়া যে মুহূর্তে বন্ধ থাকবে সে মুহূর্তে হাত সামনে ও পা পিছনে সোজা বিস্তৃত অবস্থায় রাখবে। হাতের তালু পানির নিচের দিকে এবং পায়ের তলা উপর দিকে ফিরানো থাকবে।
নতুন যারা সাঁতার শিখে তারা অনেকে এই সাঁতার শেখা সুবিধাজনক মনে করে। কারণ সে ইচ্ছা করলে মাথা উঁচু করে রাখতে পারে এবং কোথায় যাচ্ছে তা দেখতে পায়। আবার জীবন রক্ষার জন্যও এই সাঁতারের সুবিধা অনেক।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

পাঠকের মতামতঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here