যে সব খাবার অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে

0
5921

অনেকের ধারনা ডায়েট মানেই না খেয়ে থাকা কিংবা ক্ষুধায় কষ্ট করা। আসলে কিন্তু তা নয়। সঠিক পুষ্টিগুণ ও ক্যালরির খাবার, সঠিক সময়ে পরিমিত খাওয়ার নাম ই ডায়েট। আবার কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে, ক্ষুধা লাগে না আবার ওজন বাড়ার ভয় ও থাকেনা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, পরিমান যেন বেশি না হয়। কারন অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না।

#পানি : অনেকেই পানি খেতে চায়না। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের  প্রতিদিন কম করে হলেও ৩-৪ লিটার পানি পান করা দরকার। যদি সঠিক পরিমাণে পানি পান করা হয় তবে তা আমাদের দেহের জন্য যেমন উপকারী তেমনি তা পেট ভরিয়ে রাখতে ও সাহায্য করে।

#ক্যাপসিকাম, শসা, টমেটো : লাল, হলুদ কিংবা সবুজ যেকোন ধরনের ক্যাপসিকাম প্রচুর পুষ্টিকর। ক্যাপসিকামে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা রান্নায় বা সালাদে ব্যবহার করা হয়,এই ক্যাপসিকাম ওজন কমাতে অনেকটা সাহায্য করে। আর টমেটো খেলে তা স্টম্যাক এবং ইনটেস্টাইনের মধ্যে যে ভালভ রয়েছে তা টাইট করে দেয়, ফলে পেট ভরা লাগে।তাই ওজন কমাতে চাইলে সহজেই ডায়েটে এইসব আইটেম যুক্ত করা যায়। আবার শসাকে সবচেয়ে কম ক্যালরির খাবার হিসাবে ধরা হয়। হাল্কা ক্ষুধায় শসা খেয়ে নিলে টোটাল ক্যালরি ইনটেক এ খুব একটা প্রভাব পড়ে না আবার পেট ও ভরে। এগুলো দিয়ে বানানো সালাদ খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা লাগে। সাথে গাজর, কাঁচা পেঁপে, কাঁচা মরিচ, পেয়াজ যোগ করা যাবে। তবে সালাদ ড্রেসিং, তেল আর লবন বাদ দিতে হবে।

#বিভিন্ন প্রকার বাদাম : বাদামে উপস্থিত ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে এনার্জি সরবরাহ করে। এর ফাইবার ক্ষুধা কমায়। সকালে হাল্কা নাস্তার পর মধ্য সকালে কিছু পরিমাণ বাদাম খেলে দুপুরের খাবারের সময় মারাত্মক ক্ষুধা লাগবে না। এটি শরীরের সুস্থতার পাশাপাশি দেহের চর্বি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

কাঠবাদামে কিছু স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে যা অতিরিক্ত খাওয়া দমন করে,ফলে তা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে জলে ৩-৪  আমন্ড ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে ভিজিয়ে রাখা আমন্ড খেতে পারেন। এছাড়াও ব্যাগে রাখতে পারেন কিছু বাদাম, ক্ষুধা লাগলে ৫-৬ টি আলমন্ড আপনার ক্ষুধাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও দূর করবে। স্কিন ও চুল ও ভাল রাখবে। তবে বাদাম অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

#ডিম : আমাদের অনেকের ধারণা ডিম খেলে ওজন বাড়ে কিন্তু আসলে তা নয় তবে ওজন কমাতে চাইলে ডিমের কুসুম এভয়েড করতে হবে। সকালে ১-২ টি ডিমের সাদা অংশ খেলে তা অনেকক্ষন আপনার পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে এবং ডিমে গ্রেরলিন থাকে যার ফলে ক্ষুধা ও কম লাগে। যারা ডায়েট করতে চান তারা একটি ডিম রাখতে পারেন সকালের নাস্তায়। এতে সারাদিন শরীরে এনার্জি পাবেন। পাশাপাশি ওজনও নিয়ন্ত্রনে থাকবেন। এছাড়া এক্সারসাইজ এর আগে পরে ডিমের সাদা অংশ অনেক উপকারে লাগে।

#আপেল : আপেলে ক্যালরির পরিমাণ কম পানির পরিমাণ বেশি থাকে। আপেল ওজন কমাতে অনেক বেশি কার্যকরী। একটি আপেলে ৪-৫ গ্রাম ফাইবার থাকে, এর ফাইবার অতিরিক্ত খাওয়া প্রতিরোধ করে। এটি শরীরে জমে থাকা ফ্যাট কাটতে সাহায্য করে। যারা বাইরের খাবারে অভ্যস্ত তারা ব্যাগে ১ টি আপেল রাখতে পারেন, ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নিতে পারেন।

#কলা: প্রতিদিন ১ টি ছোট করে কলা খেতে পারেন। কলা আমাদের দৈনন্দিন ভিটামিন ও মিনারেল এর চাহিদার অনেকটা পূরন করে। কলা ক্ষুধা কমায় এবং অনেকক্ষন পেটকে ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে, এটি পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। তবে কলা মধ্যসকালে খাওয়া ভাল।

#ওটস : ওটস ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ওটস সাহায্য করে। ডায়েটের জন্য ওটস অনেক জনপ্রিয় একটি খাবার। সকালের নাস্তায় ওটস খেলে আমাদের পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং ওজন খুব দ্রুত কমে যায়। ওটস খিচুড়ি বা পায়েস করে খেতে পারেন। তাছাড়া আজ কাল ওটসের বিস্কুট ও পাওয়া যায়

#বিভিন্ন ধরনের বীজ: তিসি, তোকমা, ইসুবগুল,  কালজিরা ইত্যাদি বীজ বা এগুলো ভেজানো পানিও অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়াও দারুচিনি, মুগডাল, আখরোট,রান্নায় অলিভ অয়েলের ব্যবহার এবং লো ক্যালরী ও ফাইবারযুক্ত ফুলকপি আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। খাবারে কাঁচামরিচ ও রসুনের ব্যবহার কোলেস্টেরল ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রন করে এবং ব্লাডসুগার কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ওজন নিয়ন্ত্রনে লেবু, মধু ও গরম পানির মিশ্রন এবং গ্রীনটি ব্ল্যাক কফির ভূমিকা অপরিসীম। এগুলো খেলেও পেট ভরা লাগে, ক্ষুধা কম লাগে।

অপরাজিতা অর্পিতা

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
61

পাঠকের মতামতঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here