ব্যায়াম ও ক্ষুধার সম্পর্ক

0
2893

#ব্যায়াম_ও_ক্ষুধার_সম্পর্ক#

ব্যায়াম করলে কি ক্ষুধা বাড়ে? বেশি খেতে ইচ্ছা করে? নাকি খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়? কোনটা সঠিক? আসুন জেনে নিই।

ব্যায়াম আমরা করি শরীর ফিট, সুস্থ সবল রাখার জন্য, ওজন কমানোর জন্য। নিয়মিত ব্যায়াম করলে হার্ট ভালো থাকে, দেহ-মন প্রাণবন্ত থাকে, বাড়তি ফ্যাট শরীরে জমা হতে পারে না।। দেখা যায়, একই বয়স দুইজন মানুষের। কিন্তু শুধু মাত্র নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চার কারণে একজনের শারিরীক ও মানসিক সুস্থতা অন্যজনের চেয়ে ভাল।

তবে শুধু ব্যায়াম করলেই তো হবে না। ব্যায়ামের সাথে জীবন-যাপনের প্রণালীও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সর্বোপরি খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যায়াম করলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। খেতে ইচ্ছা করে।

খেলে ইচ্ছা করলে খান, এতে বারণ নেই। তবে খেয়াল রাখবেন আপনার খাবার যেন যথাযথ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং নিয়ন্ত্রিত ক্যালোরির হয়। খুব বেশি ক্যালোরির খাবার খেলেন তবে সে অনুযায়ী ব্যায়াম করে সেটাকে বার্ন করলেন না, তাহলেই সে খাবার আপনার ক্ষতির কারণ হবে। অন্যথায় নয়।

আবার মনে করেন আপনার ওজন অনেক বেশি, আপনি ব্যায়াম করলে যে ক্যালরি বার্ন হবে, তা আপনার সঞ্চিত ক্যালরি। এবং ব্যায়াম আপনার দেহের সেই সঞ্চিত চর্বি পোড়াবে। অনেকেই ভাবেন একটা মিষ্টি খেয়ে নিই, ব্যায়াম করে তা বার্ণ করে ফেলবো। কিন্তু একটু চিন্তা করেন, ব্যায়াম করলে কিছু ক্যালরি বার্ন তো হবেই, সেটা একজন বাড়তি ওজনের মানুষের সঞ্চিত ক্যালরি, কিন্তু আপনি যে মিষ্টি খেলেন, তার ক্যালরি আপনার শরীরে জমা হলো। অথবা, ব্যায়ামের দ্বারা আপনার মিষ্টির ক্যালরি বার্ন হলো ঠিকই, কিন্তু আপনার সঞ্চিত ফ্যাটের কিছুই হলো না। ভেবে দেখুন, আপনি কি ততোটা ব্যায়াম করেন বা করছেন, যা আপনার বাড়তি ওজন এবং বাড়তি খাওয়ার ক্যালরি বার্ন করতে সক্ষম? যদি তা না হয়, তবে এমতাবস্থায়, একটু ডায়েট বিরোধী খাবার খেয়ে ব্যায়াম করলে কখনওই আপনার ওজন কমবেনা।

তাই ডায়েটে থাকাকালে ডায়েট বিরোধী খাবার গ্রহণ নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে যাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে আছে, তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়। আর ব্যায়াম করলে যেহেতু ক্যালরি বার্ন হয়, তাই ব্যায়ামের পর ক্ষুধা লাগবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই খাবার যেন হয়, স্বাস্থ্যকর এবং ডায়েট বান্ধব, সে দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

ব্যায়ামের পূর্বে ও পরে খাবার খাওয়ার সময় কিছু ব্যপার মাথায় রাখুন-

#ব্যায়ামের পূর্বে কিছু পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নিন, যাতে আপনার ব্যায়ামের পর অতিরিক্ত ক্ষুধা না লাগে। মনে রাখবেন, ব্যায়ামের মিনিমাম ২ ঘন্টা আগে ভারী খাবার সেরে ফেলুন। এছাড়া, ব্যায়ামের ৩০ মিনিট আগে পরিমিত পরিমানে কলা/ ওটস/ লো ফ্যাট দুধ/ লো ফ্যাট দই/ পিনাট বাটার/ বাদাম/ খেজুর/ ডার্ক চকলেট খেতে পারেন। আর ব্যায়ামের ১০ মিনিট আগে ব্ল্যাক কফি খেলে ব্যায়াম চলাকালীন সময়ে দূর্বল লাগার সম্ভাবনা কমে যায়।

#ব্যায়ামের পর উচ্চ ক্যালোরির খাবার খাওয়া যাবে না। ব্যায়ামের পর প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। যেমন, ডিমের সাদা অংশ, লো ফ্যাট দুধ, লো ফ্যাট দই ইত্যাদি।

#ব্যায়ামের সময় ২০০ মিলি পানি খান, একটু একটু করে, গলা ভেজানোর মতো। তাহলে শরীর পানিশূন্যতায় ভুগবেনা, আর ক্লান্তিও কম লাগবে।

#ব্যায়ামের পর শরীর ঠান্ডা হলে যত ইচ্ছে পানি খান। সাথে সাথে পানি খেলে অনেকের ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে।

#প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি খান।

#ফলের বা ফলের সালাদ খেতে পারেন তবে তাতে ভুলেও চিনি মিশাবেন না। কারণ চিনির উপকারী কোন দিক নেই, পুরোটাই ক্ষতি।

শরীরের সুস্থতা নিশ্চিত করতে ক্যালোরি মেপে খাবার খাওয়ার বিকল্প নেই। ব্যায়াম করলে ক্ষুধা বাড়তেই পারে তবে যাই খাবেন দেখে-শুনে দেখে হবে।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
9

পাঠকের মতামতঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here