প্রোটিন কি ?

0
6972

আজকে ম্যাক্রোনিউট্রিশিয়ান (কার্বস,প্রটিন, ফ্যাট) এর প্রোটিন পার্ট নিয়ে আলোচনা করবো। আগে কার্বস নিয়ে করেছিলাম। কার্বস নিয়ে দেখতে চাইলে নিচের লিংক দেখতে পারেন। যাই হোক কথা না বাড়িয়ে টপিকে আসা যাক।

#প্রোটিন কিঃ
———————

প্রোটিন (আমিষ) জৈব বৃহত-অণুর প্রকারবিশেষ। প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়।খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে প্রোটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন ছাড়া কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়। তাই প্রোটিনকে সকল প্রাণের প্রধান উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। সব প্রোটিনই কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। প্রোটিনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাঙলে প্রথমে এমাইনো এসিড পরে কার্বন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়। অর্থাৎ অনেক এমাইনো এসিড পাশাপাশি যুক্ত হয়ে একটি প্রোটিন অণু তৈরী করে।

#প্রকারভেদঃ
————————

প্রোটিন কে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যা
প্রাণিজ প্রোটিন : যে প্রোটিনগুলো প্রাণিজগৎ থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে প্রাণিজ প্রোটিন বলে। যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি। এই প্রোটিনকে প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন: উদ্ভিদ জগৎ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিনকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বলে। যেমন: ডাল, বাদাম, সয়াবিন, শিমের বিচি ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনকে দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রোটিন বলে।

#প্রোটিন তথা এমিনো এসিদের নাম ও কিভাবে কাজ করেঃ
———————————–

প্রকৃতিতে ১০০+ এমিনো এসিড বিদ্যমান। কিন্ত মানবদেহ মাত্র ২২ টি এমিনো এসিড এর স্বদব্যবহার করতে পারে। মানবদেহে ৯ টি এমিনো এসিড তৈরী হয় যাদেরকে বলে এসেনসিয়াল এমিনো এসিড এবং এগুলো খাদ্যের মাধ্যমে কনজিউম হয়।
এমিনো এসিড হলো এক ধরনের অর্গানিক কম্পাউন্ড যেটাতে এটলিস্ট ১ টা এমিনো গ্রুপ (-NH2) আর ১ টা কার্বোক্সি (-COOH) গ্রুপ। মানব শরীরের জিনোম এ ২০ টি এমিনো এসিড তৈরী হয় আমিষ বিল্ড করার জন্য তাই এদের নাম প্রোটিনোজেন । এছাড়া প্রায় ২৫০ রকমের এমিনো এসিড রয়েছে কিন্ত তারা আমিষ তৈরী করতে পারেনা।
এই ২০ টি প্রোটিনোজেন এমিনো এসিড কে আরও বলা হয় স্ট্যান্ডার্ড এমিনো এসিড, যারা ৩ ভাগে বিভক্ত যেমন- এসেনসিয়াল, সেমি এসেনসিয়াল এবং নন এসেন্সিয়াল।
মানবদেহে ৮ টি এসেনসিয়াল এমিনো এসিড রয়েছে , যেহেতু শরীর তাদের নিজে নিজে তৈরী করতে পারেনা তাই এদেরকে বাইরে থেকে সাপ্লাই দিতে হয় । এরা হলো আইসোলিউসিন,লিউসিন,লাইসিন,মেথিউনিন, ফিনাইলেলানিন, থ্রিউনিন, ট্রিপটটোফ্যান,এবং ভ্যালিন।
আর্জিনিন এবং হিস্টিডিন হলো সেমি এসেনসিয়াল এমিনো এসিড ।
বাকী ১০ টি নন এসেনসিয়াল প্রোটিন । এরা হলো এলানিন, এসপারাজিন, এসপারটিক এসিড , সিস্টিন, গ্লুটামিন,গ্লুটামিক এসিড,প্রোলিন,সেরিন, এবং টাইরোসিন।

#কার্জকারীতা ও উপকারিতাঃ
————————

* শরিরের পুস্টির চাহিদা মেটায়.
* দেহের ওজন ঠিক রাখতে এবং কমাতে সাহায্য করে..
* শিশুর পরিপূণ্য বিকাশে সাহায্য করে.
* শরিরকে সতেজ রাখে
* দেহের রক্ষণাবেক্ষণ করে
* মাংসপেশি গঠন বাড়ায়।
* ফ্যাট বার্ণ করতে সাহায্য করে।
* মনোযোগ বাড়ায়।
* সহনশীলতা বাড়ায়।
* ক্লান্তিবোধ দূর করে।
* ব্যয়ামের ফলে শরীরে যতটা damage হয় সব আবার rebuild করে আর বডি stronger করে

#অতিরিক্ত নিলে যা হয় বা অপকারিতাঃ
———————————-

* ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
* কিডনি পাথর বা ড্যামেজ করে দেয়।
* ক্যান্সার হতে পারে। (mammalian target of rapamycin (mTOR)
* ব্রেন ফাংশান এবং লিভার ফাংশান কমিয়ে দেয়।
* কোলেস্ট্রেরল বাড়িয়ে দেয়।
* শরিরকে ডিহাইড্রেট করে ফেলে। (তাই বেশি প্রোটিন খেলে পানি বেশি খেতে হয়)

#ক্যালরি হিসেবঃ
————————————–

বয়স ভেদে প্রোটিন নেয়ার একটা সিস্টেম আছে। যেটা হলো,
=> বেবির ক্ষেত্রে দিনে ১০ গ্রাম প্রোটিন নেয়া যেতে পারে।
=> স্কুলে পড়ুয়া বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১৯-৩৪ গ্রাম হাইয়েস্ট প্রোটিন নেয়া যেতে পারে।
=> টিনেজারদের ক্ষেত্রে ৪৬ গ্রাম প্রোটিন নেয়া যেতে পারে।
=> একজন পুর্নবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে ৫৬ গ্রাম আর একজন মহিলার ক্ষেত্রে ৪৬ গ্রাম (ব্রেস্ট ফিডিং বা প্রেগ্নেঞ্চিতে ৭১ গ্রাম পর্জন্ত নেয়া যাবে)
সোজা কথা, একজন মানুষের ডেইলি খাবারের ৩৫% প্রোটিন ইন্টেক করতে হবে মেক্রোনিউট্রিশিয়ান হিসেবে।
যদি কেউ ১০০ ক্যালরি প্রোটিন খাই তবে তাকে ৩০ ক্যালরি এনার্জি বার্ন করতে হবে। আর বাকি ৭০ ক্যালরি নেট হিসেবে রেখে দিতে হয় ডাইজেস্ট এর জন্যে।

** পুর্নবয়স্ক দের ডেইলি প্রোটিন খাওয়ার একটা একটা সোজা হিসেব করা যেতে পারে,
পার ওজনের ০.৮ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া যাবে। ধরা যাক, আপনার ওজন ৭০ কেজি। তাই ৭০*০.৮=৫৬ গ্রাম প্রোটিন ৭০ কেজি ওজনের মানূষ্টির জন্যে দরকার।
অথবা আপনার ওজন কে পাউন্ডে হিসেব করে তাকে ০.৩৬ দিয়ে গুন করে যে ফলাফল আসবে সে পরিমান প্রোটিন খাওয়া যাবে।
ধরুন। আপনার ওজন ৭০ কেজি। ৭০ কেজিকে পাউন্ডে হিসেব করলে আসে ১৫৪ পাউন্ড । তাহলে ১৫৪ * .৩৬=৫৫ গ্রাম।
হিসেব করলে ঘুরিয়ে পেচিয়ে একই।

**আর একটা জিনিস জেনে রাখা ভালো, ১ গ্রাম প্রোটিন = ৪ ক্যালরি।

#কিছু হাই প্রোটিন খাবারের নামঃ
————————
কিছু হাই প্রোটিনের নাম লিখে দিলাম। যা থেকে ডেইলি প্রটিনের চাহিদা মেঠানো যাবে।

=> চিকেন (ব্রেস্ট বা স্কিনলেস )
=> ফিস
=> বিফ
=> পর্ক
=> এগ হোয়াইট
=> বিন
=> নাট
=> মিল্ক
=> চিজ
=> প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট( হোয়ে,ক্যাসিন,সয়া)

**একটা টিপস দিয়ে রাখলাম। পোস্ট ওয়ার্কাউট মিল হিসেবে প্রোটিন হলো বেস্ট মিল। এক্সারসাইজের পর আমাদের ছিরে যাওয়া মাসল ফাইবার গুলোকে রিপেয়ার + বিল্ড করে দেয়। এই ক্ষেত্রে প্রটিন নিলে আমাদের এক্সারসাইজের ফলে যে পেইন হয় সেটা খুব কম হয়। তাই, এক্সারসাইজ শেষ করার ২০-৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রোটিন খেয়ে নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেস্ট ফার্স্ট ডাইজেস্ট করা প্রোটিন হলো হোয়ে প্রোটিন। যেহেতু হোয়ে প্রটিনের দাম বেশি বা বাংগালীদের হাতের লাগালের বাইরে তাই এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ডিম, দুধ। এক্সারসাইজ এর পর ১-২ স্কুপ(৩০ গ্রাম) স্কিমড মিল্ক পাওডার গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। নয়তো এগ হোয়াইট ২-৪ টা একসাথে খেয়ে নিয়ে পারেন। ***

প্রোটিন নিয়ে বেসিক যেটা দরকার সেটা লিখার চেষ্টা করেছি। কারো কিছু জানলে চাইলে অবশ্যই জেনে নিবেন। যতটা জানি জানানোর চেষ্টা করবো।

যাই হোক ভালো থাকবেন সবাই। সুস্থ থাকবেন
#BeFiT #BeSmarT #BeYou #BeHappy
#Dont Compare to other,,Fight to bettering yourself

প্রোটিন টপিক বানাতে যারা যারা হেল্প করেছেন তাদের নামঃ
Dr-Mahshina Khan Moonmun
Sumaiya Karim Oyshi
Tahmina Ahmed Banee
প্রতিভা প্রিয়াংকা
Tanjiba Afroj

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
7

পাঠকের মতামতঃ