ডায়েট ফ্যাক্টস

0
2218

দীর্ঘ দুই বছর গ্রুপ চালানোর অভিজ্ঞতায় দেখলাম অধিকাংশ মানুষ মনে করে ওটস, গ্রিনটি, ডেটক্স, টকদই এগুলা বুঝি ওজন কমানোর ওষুধ। এগুলা খেলেই হয়ত ওজন কমে যাবে।

প্রশ্ন জাগে কেন ভাবেন যে এসব খেলেই ওজন কমে?
উত্তর টা দুইভাবে দেখা যায়।

১/মোটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি –
“খেয়ে ওজন বাড়াইছি, খেয়ে ওজন কমাবো”

২/চার্টে মেপে মেপে ভাত, রুটি, মাছ, ডাল, সবজি দেয়া থাকে ঠিকই, সাথে একবেলায় হয়ত ওটস, সকাল বিকাল গ্রিনটি, ডেটক্স, টকদই খেয়ে বলা হয়। তো সাধারণ দৃষ্টিতে কি দেখা যায়? – ভাত, মাছ, সবজি তো বহুত খাইছি, ওজন কমে নাই। চার্টে এক্সট্রা নতুন জিনিস যেহেতু এইগুলা, তারমানে এইগুলা দিয়েই ওজন কমে।

এটা ভুল ধারণা। এসব কিছুই ওজন কমানোর ওষুধ না। এসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার মাত্র, যা খেলে আপনি সুস্থ থাকবেন, পাশাপাশি আপনার শরীরে জমানো চর্বিকে ধীরেধীরে ভাঙ্গা সম্ভব। আগে প্লেট ভর্তি ভাত খাইতেন, সকালে গরু ভুনা বা আলু ভাজি দিয়ে কয়টা রুটি খাইতেন গণার প্রয়োজন মনে করেন নাই। ফলাফলে আপনি এখন এই গ্রুপের সদস্য। অনেকে বলেন ডায়েট করার টাইম পান না। এর চাইতে বড় মিথ্যাচার আর হইতেই পারে না। রীতিমত নিজের সাথেই প্রতারণা। ডায়েটের জন্য এক্সট্রা কি সময় লাগে? পারলে আরো সময় বাঁচে। আপনি জাস্ট আগের বেহুঁশের মত ননস্টপ খাওয়াদাওয়া কে লাগাম লাগিয়ে পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবারকে রিপ্লেস করবেন। আর কিচ্ছু না। প্লেট ভর্তি ভাতের বদলে মেপে ভাত খাচ্ছেন বা লাল আটার রুটি খাচ্ছেন, দুধ চিনি চায়ের বদলে গ্রিনটি, ডেজার্টের বদলে টকদই, ভাজাপোড়া স্ন্যাক্সের বদলে ফলমূল…. এইতো!
অনেকে আবার ভাবেন ভাত বুঝি সব নষ্টের গোড়া। ভাত বাদ দিয়ে এনারা দিব্যি নুডুলস, স্যুপ, পাস্তা খান। বলতে লজ্জা নাই একসময় আমিও এটাই ভাবতাম। এই ভুলটা কেন করি আমরা? কারণ খাদ্যগুণ সম্পর্কে আমাদের ব্যাসিক আইডিয়া নাই। আমরা যারা ৯০ এর, তাদের মনে থাকার কথা। ক্লাস ৩ এর বিজ্ঞান বইয়ে একটা চাপ্টার ছিল “সুষম খাদ্য” নামে। মনে আছে? এছাড়াও প্রতি ক্লাসে বিজ্ঞানের বইয়ে খাদ্যগুণ সম্পর্কিত একটা চাপ্টার থাকতোই। ঐসময় ঐ বইগুলাতে আমরা যা যা পড়ছি, এখন এই গ্রুপেও একই কথা বলি আমরা। আমাদের জানতে হবে, চিনতে হবে কোনটা কার্ব, কোনটা প্রোটিন, কোনটা স্নেহ। কোনটা কখন শরীরের জন্য দরকারি, কোনটা বেশি খেলে কি হবে কিংবা কম খেলে কি প্রভাব ফেলতে পারে। এসব হুট করে তো হবে না। ধৈর্য নিয়ে আশেপাশের খাবার গুলা সম্পর্কে অল্প কিছু আইডিয়া আমাদের নিতে হবে। ভাত খেয়েও ওজন কমানো যায় যদি আপনি আপনার শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত খান এবং ক্যালরি বার্ণ করে ফেলার পদ্ধতি জানেন।
অনেকে বলেন এক্সারসাইজ করার সময় পান না। এটাও মিথ্যাচার। নিজের জন্য, নিজের স্বাস্থ্যের জন্য, সুস্থভাবে বাঁচার জন্য, রোগবালাই থেকে দূরে থাকার জন্য যারা ২৪ঘন্টার মধ্যে আধাঘন্টা সময়ও বের করে নিতে পারেন না, তারা আসলে নিজেদেরকেই ভালবাসেন না।

“অজুহাত” ওজন কমানোর মহাশত্রু। আপনি যখন কিছু জানতে চাইবেন, আমরা যথাসাধ্য জানাতে চেষ্টা করব। কিন্তু যখন অজুহাত দেখাবেন, তখন এসব জেনেও লাভের লাভ কিছুই হবে না। সময় থাকতে সাবধান হোন। নিজের ভাল বুঝতে শিখেন। আমরা সবাই ভুল করে করেই শিখছি। কিন্তু আপনাদের জন্য ব্যাপারটা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। ভুল কোনটা, ঠিক কোনটা, সেটা দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে গ্রুপের একদল স্বেচ্ছাসেবক। তাদের শ্রমের মূল্য দিন। তাদের পরামর্শের সদ্ব্যবহার করুন। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, একদিন আপনিই এই গ্রুপে অন্যদের পরামর্শ দিবেন, বিফোর আফটার ছবি দিবেন, লিখবেন আপনার “বদলে যাওয়ার গল্প”….

সবার জন্য শুভকামনা রইল 🙂

#ওজন_কমবেই

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
101

পাঠকের মতামতঃ