PCOS লাইফস্টাইল ও স্যাম্পল ডায়েট চার্ট

0
5278

#পিসিওএস (PCOS) কিঃ
—————————
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পি.সি.ও.এস) হল একটি সাধারণ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা যা ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে যেকোন ১ জনকে প্রভাবিত করে। ১০-১১ বছর বয়সী মেয়েদেরও পিসিওএস হতে পারে। হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট এবং মেটাবলিজম এর সমন্বয়হীনতার সমস্যা রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্য ও চেহারার উপর প্রভাব ফেলে। তবে এই রোগ এর উপসর্গ সমুহ খুব সহজ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব ।
তবে একটা ব্যাপার জেনে রাখা ভালো, যদি আপনার মা, বোন এমনকি ব়ক্ত সম্পর্কের কারো এ রোগ হয়ে থাকলে(জীনগত) আপনি ও ঝুকিতে থাকবেন।

#পিসিওএসের লক্ষনঃ
——————-
– অনিয়মিত মাসিক চক্র
– প্রচুর পরিমানে চুল পরা।
– ব্রন
– পাতলা চুল
– অনিয়ন্ত্রিত ওজন বৃদ্ধি বা
হ্রাস
– মাথা ব্যাথা
– শরীরের যেকোন অংশে
অবাঞ্ছিত লোম জন্মানো। (“hirsutism”)
– ডার্ক স্কিন বা অস্বাভাবিক ভাবে ঘাড় বা চোয়ালের চামড়া কালো হয়ে যাওয়া।
– গলার স্বর ভারি হওয়া

#পিসিওসের কারনঃ
—————
পিসিওএস এর সঠিক কারণ কেউ জানে না। তবে বেশিরভাগ এইসব বংশগত বা জেনেটিক এর উপরেই ডিপেন্ড করে।
২ টা কারন আসতে পারে।

১) হাই লেভেল এন্ড্রোজেন্
২) হাই লেভেল ইন্সুলিন।
pcos এ মেয়েদের শরীরে অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন হরমোন থাকে। এই অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন এর কারনে ব্রণ হতে পারে, শরীরে অবাঞ্ছিত লোম । অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি, অনিয়মিত মাসিক চক্র ইত্যাদি হতে পারে।
PCOS এ শরীরে ইনসুলিন এর মাত্রা অনেক বেশি থাকে, এটি একটি হরমোন যা খাবারের শক্তিতে রুপান্তরিত করতে অর্থাৎ মেটাবলিজম এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত ইনসুলিন এর কারণে আপনার ঘাড়, বগল, কনুই, গাল, হাঁটুর পিছনের ত্বক কালো হতে পারে।

#পিসিওএস কি কি অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়?
——————————
– ডায়বেটিক
– হাই ব্লাড প্রেশার
– আনহেলদি কোলেস্টেরল
– স্লিপ এপ্নিয়া
– ডীপ্রেশান এবং এঞ্জাইটি
– বন্ধাত্ব
– এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার

#পিসিওএস ডায়াগনোসিস ও ট্রিটমেন্ট :
———————————–
সাধারনত পিসিওএস এর রুগীদের সমস্যার ভিত্তিতে ৩ টি ধাপে এর ডায়াগনোসিস করা হয়

১। রুগীর সমস্যার সাথে ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন এ এর সামন্জস্য , যেমন , ওজন বৃদ্ধি, রুগীর হাইট , ওয়েট , বয়স অনুযায়ী তার বিএম আই নির্ণয়,
উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা তা নির্ণয় করা।
শরীরে অবাঞ্ছিত লোম বা ঘাড়ে কালো দাগ চিন্হিত করা , ব্রন, গলার স্বর ভারী হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ।

২। রক্ত পরীক্ষা : সাধারনত পিসিওএস রুগীদের ক্ষেত্রে রক্তে এন্ড্রোজেন ও অন্যান্য হরমোনের উচ্চ মাত্রা , রক্তে ইনসুলিন এর মাত্রা বা ইনসুলিন সংবেদনশীলতার জন্য জিটিটি, ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল, প্রলাকটিন লেভেল, কলেস্টেরলএবং রুগীর সমস্যার অন্য কোন কারনে কিনা তা দেখার জন্য থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা ও অন্যান্য আরও কিছু রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় ।

৩। আলট্রাসনোগ্রাফি : এক্ষেত্রে সাধারনত আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে চুড়ান্ত ডায়াগনোসিস করা হয়ে থাকে । চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ি Per -abdominal ও TVS এই ২ ধরনের যে কোন একটা বা দুটাই আলট্রাসনোগ্রাফি করে দেখা যায়।
আলট্রাসনোগ্রাফি তে , ওভারিদ্বয় এর পরিমাপ বা ভলিউম বৃদ্ধি সহ ওভারিতে ১২ বা তার অধিক ছোট ছোট দানার মতো সিস্ট , যা অনেকটা মুক্তার মালার মতো লাইন করে সাজানো থাকে , এমন দেখতে পাওয়া গেলে , সেই রুগীর ক্ষেত্রে পিসিওএস আছে হলে মত দেয়া হয় ।

#চিকিৎসা :
——————–
১। চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রথমে রুগীর ওয়েট ম্যানেজমেন্ট কে গুরুত্ব সহকারে নেয়া হয় । লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে রুগী কে হাল্কা থেকে ভারী ব্যায়াম এর পরামর্শ দেয়া হয় ।
২। পিসিওএস এ ডায়েটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । শর্করা এড়িয়ে , রক্তে গ্লুকোজের পরিমান নিয়ন্ত্রণ , পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক বিষয়ে রুগীকে সচেতন করে তোলা হয় ।

৩। ঔষধ :
হরমোন পিলস্ : কম্বাইন্ড জন্ম বিরতিকরণ পিল যা ইস্ট্রজেন ও প্রজেসটিন এর সমন্বয়ে গঠিত , রক্তে এন্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমায় , ইস্ট্রজেন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে । এতে দেহে ইস্ট্রোজেন এর পরিমানে সমন্বয় আসে ও মাসিক নিয়মিত করণ সহ , গলার স্বর ভারি হওয়া, অনাকাংখিত লোম বা ব্রন এসব সমস্যা র সমাধান হয় ।

মেটফরমিন : রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে ।

প্রজেসটিন : এ ঔষধগুলো মাসিক নিয়মিতকরণ এ সাহায্য করে ।

এছাড়াও আণুষাঙ্গিক অন্যান্য সমস্যা অনুসারে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য ঔষধ ও ব্যাবহার করা হয় । সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি একজন গাইনিকোলজিস্ট দেখিয়ে নিতে পারেন। মেডিসিন খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে নিবেন। এইখানে শুধুমাত্র একটা বেসিক গাইডলাইন দেয়া হয়েছে।

** ১৫০০(±) ক্যালরির ডায়েট চার্টঃ
=========

#Breakfast:
——-
১৫ গ্রাম ওটস/১৫ গ্রামের লাল আটার রুটি + ১০০ মিলি লো ফ্যাট মিল্ক/৩০ গ্রাম চীজ/ ৩০ গ্রাম টক দই + যেকোন ১ টা ফল (কমলা/কলা/৫ তা আঙ্গুর/৪ টা শুকনো খেজুর) + ১ টা ডিম সেদ্ধ( কুসুম সহ ৫ দিন) + ১ কাপ গ্রীন টি ।

#Midmorning Snack:
——-
৩০ গ্রাম চিনা বাদাম/ ১০ টা কাট বাদাম(আমন্ড) + ১ কাপ ব্ল্যাক কফি ১৫০ মিলি।

#Lunch:
——-
১২০ গ্রাম চর্বিছাড়া মুরগীর মাংস/ মাছ + সবজি ১৫০ গ্রাম + ১ টি ডিম সেদ্ধ ( কুসুম ছাড়া) + সালাদ ১০০ গ্রাম

#Afternoon Snack:
——-
৩০ গ্রাম টক দই/চীজ + ১০ কাট বাদাম(আমন্ড)/ ৩০ গ্রাম চিনা বাদাম + গ্রীন টি

#Dinner:
——–
ব্রাউন রাইস ৩০ গ্রাম / ব্রাউন ব্রেড ৩০ গ্রাম + ১৫০ গ্রাম মাছ/চর্বিছাড়া মুরগীর মাংস + সবজি ১২০ গ্রাম

###
পরামর্শঃ যা অবশ্যই আপনাকে মেনে চলতে হবে।
=========

++ ১৪:১০ = ১০ ঘন্টার মধ্যেই সব খাবার খাবেন। বাকি ১৪ ঘণ্টা পানি ছাড়া কিছু খাওয়া যাবে না। প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর মিল নিতে হবে। রাতের মিল(ডিনার) খাওয়ার পরের ১৪ ঘণ্টা পানি ছাড়া কিছু খাবেন না। সোজা হিসেব ডিনার আর ব্রেকফাস্টের গ্যাপ মিনিমাম ১৪ ঘণ্টা রাখতে হবে। ডিনার করার ১৪ ঘণ্টা পরেই আপনি সকালে ব্রেকফাস্ট করতে পারবেন।
++ সবজি অলিভ অয়েল দিয়ে খাবেন।
++ ২-৩ লিটার পানি খাবেন।
++ সপ্তাহে ৫ দিন এক্সারসাইজ করবেন। ২ দিন রেস্ট নিবেন। মিনিমাম ৪০ মিনিট করে সকাল + বিকেল।

#কি কি খাবার এড়িয়ে যাবেনঃ
———————
সাদা ভাত,সাদা পাউরুটি, মাফিন, মিস্টি জাতীয় খাবার, ড্রিঙ্কস, রেড মিট, আলু, ময়দা, সয়াবিন তেল, অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার।

**যাই হোক, সবশেষে একটা কথা না বললেই নয়। লাইফস্টাইল চেঞ্জ না করলে আসলে কোনকিছুই সম্ভব হবে না। পরিমিত খাওয়া দাওয়া, ব্যায়াম আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে। নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিবেন।
শুভকামনা সবার জন্যে। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

লেখকঃ
Shafinaz Islam Rupu
রাতুল দত্ত

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
201

পাঠকের মতামতঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here