সবজি বা ফলের সালাদের উপকারিতা

0
2970

নিজের বাসায় কিংবা দাওয়াতে যেখানেই যাওয়া হোক তেল মশলা এড়ানো যায়না কিছুতেই। এতো তেল মশলা খাওয়ার পর বেশ অস্বস্তিও লাগে। তাই তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার সময় তাজা ফল বা সবজির সালাদ খেতে খুবই ভালো লাগে। তরতাজা সবজি বা ফলের সালাদ খেলে নিজেকেও বেশ সতেজ লাগে। তাছাড়া সালাদ খেলে পেটও ভরে যায় কিছুটা। ফলে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা কমে। সালাদে কম ক্যালরি ও প্রচুর ভিটামিন থাকে। তাই স্বাস্থ্যের জন্যও খুবই উপকারী একটি খাবার হলো সালাদ।

চোখ ভালো করে

পালং শাকের পাতা, লেটুস পাতা, গাজর এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, লুটেইন ও জিয়াক্সান্থিন থাকে। আর এই উপাদান গুলো চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। ভিটামিন দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। লুটেইন ও জিয়াক্সান্থিন চোখ কে ক্ষতির ৬থেকে রক্ষা করে। তাই নিয়মিত সালাদ খেলে দৃষ্টি শক্তি ভালো থাকে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ সাউথাপ্টনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা নিয়মিত খাবার তালিকায় সালাদ রাখে, অন্যদের তুলনায় তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে। এছাড়াও সালাদ টিউমার সেলের বৃদ্ধি রোধ করে। ফলে ক্যান্সার দ্রুত ছড়াতে পারে না।

হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে

সাধারণত সবজি কিংবা ফল দিয়ে সালাদ বানানো হয়। তাজা সবজি ও রঙিন ফলমূল হৃৎপিণ্ডের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও নিয়মিত সবজি ও ফলমূল খেলে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। তাই প্রতিদিন খাবারের তালিকায় সালাদ রাখলে হার্টের বিভিন্ন অসুখের ঝুঁকি কমে যায় এবং স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা কমে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

সালাদের সাথে শশা, পালং শাক কিংবা লেটুস পাতা ব্যবহার করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাবের কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুকি বাড়ে। নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে সালাদ খেলে প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদার প্রায় ১৬% পূরণ হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে সালাদ রাখলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

ওজন কমে

যারা ওজনের সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা নিয়মিত সালাদ খান। সালাদে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে। এছাড়াও প্রচুর ভিটামিন আছে ফল কিংবা সবজির সালাদে। প্রতিদিন অন্যান্য খাবার কম খেয়ে বেশি করে সালাদ খেলে শরীরে ভিটামিনের অভাব পূরণ হবে এবং পাশাপাশি ক্যালোরিও কম গ্রহণ করা হবে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

কতটুকু সালাদ খাবেন প্রতিদিন?

প্রতিদিন খাবারের অর্ধেকটা সালাদ রাখুন বাকি অর্ধেক অন্যান্য খাবার। তবে সালাদের সাথে ক্রিম, পনির কিংবা মেয়োনেজ ব্যবহার না করে সবজির সালাদে সামান্য অলিভ অয়েল অথবা স্রেফ পেঁয়াজ, মরিচ ও লবণ দিতে পারেন। হয়তো একটু সরিষার তেল দেয়া যায়। লেবু, ধনে পাতা ও পুদিনা পাতাও ব্যবহার করতে পারেন স্বাদের জন্য।

কিসের সালাদ খাবেন?

কাঁচা খাওয়া যায় এমন যে কোন রকমের ফল ও সবজি দিয়ে সালাদ তৈরি করতে পারেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শসা, গাজর, টমেটো, লেটুস, বাঁধাকপি ও নানান রকম মৌসুমি ফল দিয়ে চমৎকার সালাদ তৈরি হতে পারে।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

পাঠকের মতামতঃ