রক্তদান এবং কিছু কথা

0
3073

রক্তদান করা মানেই হচ্ছে আপনি একটি জীবন বাঁচানোর মতন পূণ্য অর্জন করলেন।সাহায্য করলেন একজন মানুষকে ট্রমা থেকে বাঁচতে , মুমূর্ষ সার্জারীর রোগীর জরুরী মুহূর্তে রক্ত দিয়ে তার ব্লাড লেভেল কে স্বাভাবিক নিয়ে আসার ক্ষেত্রে.. যখন কোন রক্তদাতা রক্ত দান করে তখন তার কিছু কিছু পার্শপ্রতিক্রিয়া হয় যেমন হাল্কা মাথা ঘোরানো, ক্লান্ত লাগা, এমনকি রক্ত দান করার পর পর অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। আমি উপায় বলে দিচ্ছি যার ফলে রক্তদান করবার পর এইসব পার্শপ্রতিক্রিয়া কিছুটা মিনিমাইজ হবে; তা হল আপনি রক্তদান করার আগে কি খাবেন.. সঠিক খাদ্য গ্রহন করলে তা আপনাকে সাহায্য করবে খুব দ্রুত শরীরের লৌহ (আয়রন) এর ঘাটতি পুরন করতে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন স্টোর করে রাখতে। আসুন জানি কিছু উপকারী কথা :

রেডক্রস অনুমোদিত রক্ত দান সফল করার টিপস স:

রক্ত দেবার আগে:
১.একটি হেল্দী আয়রন লেভেল থাকতে হবে রক্ত দান করতে চাইলে
২.রক্ত দান করার আগের রাতে খুব ভাল এবং পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।
৩.রক্ত দেবার ২ ঘন্টা আগে ১৬ আউন্স পানি পান করুন
৪.রক্ত দান করবার পূর্বে হেল্দী এবং হোল সাম মিল নিন( ফ্যাটি, জাংক ফুড, এলকোহল এগুলা বর্জন করুন)
৫.যদি আপনি প্লেটলেট ডোনার হয়ে থাকেন তবে আপনার রক্ত যেনো কমপক্ষে ২ দিন আগে থেকে এসপিরিন বা এরকম কোন রক্ত তরল কারক ড্রাগ থেকে মুক্ত থাকে সেটি খেয়াল করবেন।

রক্ত দেবার সময়:
১.এমন পোশাক পরুন যার হাতা ( স্লিভ)যেনো সহজেই কনুই এর উপর পর্যন্ত গোটানো যায়
২.যদি পূর্বে রক্ত দেবার অভিজ্ঞতা থাকে তবে যিনি রক্ত ড্র করবেন তাকে আপনার কোন ভেইন থেকে সহজেই রক্ত নেয়া যায় তা বলুন
৩। ব্লাড ড্র কারী কে কোন হাত থেকে রক্ত দিতে চান তা জানিয়ে দিন ।
৪.রিল্যাক্স থাকুন, মিউজিক শুনুন, কিংবা অন্য ডোনার এর সাথে গল্প করতে পারেন ।
৫। রক্ত দেবার পর এক্টু সময় নিয়ে খাবার খেয়ে নিন ।

রক্ত দেবার পর :
১।৪ গ্লাস পানি পান করুন, এলকোহল থেকে বিরত থাকুন পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘন্টা ।
২।পরবর্তী ৩-৪ ঘন্টা স্ট্রিপ ব্যানডেজ টি লাগিয়ে রাখুন।
৩। স্কিন র্যাশ এভয়েড করার জন্য স্ট্রিপ ব্যানডেজ এরিয়াটি ভাল করে সাবান এবং পানি গিয়ে ধুয়ে ফেলুন ৪।দিনের বাকী সময়টুকু কোন রকম হেভী ওয়েট লিফটিং বা ভিগোরাস এক্সারসাইজ থেকে বিরত থাকুন
৫।যদি সূচ ফোটানোর জায়গা থেকে পুনরায় রক্ত পরা শুরু হয় তবে চাপ দিয়ে ধরে রাখুন এবং হাত সোজা করে উপরে তুলে রাখুন ৫-১০ মিনিট বা যতক্ষন রক্ত বন্ধ না হয় ।
৬।যদি রক্ত দেবার পর মাথা ঘোরায় বা মাথা ভার ভার লাগে বা কোনরূপ অসস্থি লাগে তবে তৎক্ষনাত যা করছিলেন তা স্টপ রাখুন , বসে পরুন বা শুয়ে পরুন যেভাবে আপনি আরাম বোধ করবেন । বিশ্রাম নিন। পরবর্তী ২৪ ঘন্টা এমন কিছু করবেন না যার কারনে আপনি জ্ঞান হারাতে পারেন ।
৭।রক্ত দেবার পর যদি কোন মেডিক্যাল কেয়ারের দরকার হয় তবে দেরী না করে ডাক্তারের শরনাপন্ন হো

রক্ত দান করার আগে পরের খাদ্য দ্রব্যের তালিকা :

লৌহ সমৃদ্ধ খাবার :

ভিটামিন সি আছে এমন ফল খাবেন যেমন টক ফল, উদ্ভিজ্জ সোর্স যা কিনা এবসর্বশন বৃদ্ধি করে।
লৌহ হচ্ছে রক্তের এমন একটি উপাদান যা অক্সিজেন ক্যারি করে আপনার শরীরের কলা কোষ এ(টিস্যু)
লৌহ বাদে বডি কোন হেল্দী রেড ব্লাড সেল তৈরী করতে পারেনা।যেহেতু আপনার শরীরকে অতি অবশ্যই নতুন নতুন ব্লাডসেল তৈরী করতে হবে তাই এমন খাবার খেতে হবে যেগুলোতে লৌহ আছে যাতে করে আপনার শরীর একটি ভাল আরম্ভ করতে পারে। উদাহরণ দেই: লৌহ সমুদ্র খাবার যেমন পালং শাক, রেড মীট,মাছ, পোলট্রি,বিভিন্ন রকম বীন্স,কিশমিশ ইত্যাদি। বাদাম এবং পীনাট বাটারেও আছে লৌহ .. কিছু ফর্টিফায়েড সিরিয়ালেও আছে লৌহ তবে কেনার আগে অবশ্যই নিউট্রিশন ফযাক্ট এবং কি কি উপাদান আছে দেখে কিনবেন।

ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাদ্য:
ফর্টিফায়েড ব্রেড, সিরিয়ালস, লাল চালের ভাত এগুলোতে ফলিক এসিড থাকে।
আপনার শরীর যে সকল ফলিক এসিড গ্রহন করে তাকে আমরা জানি B-9, folic acid or folacinনামে।যা নতুন লোহিত রক্ত কনিকা তৈরী করতে কাজে লাগে।এটা আপনাকে সাহায্য করবে রক্ত দান করার পর ব্লাড সেল কে রিপ্লেস করতে। আরও কিছু খাদ্য আছে ফলিক এসিড সমৃদ্ধ যেমন কলিজা, শুকনা সীমের বীচি,এসপ্যারাগাস,সবুজ শাক সব্জী,কমলার রস ইত্যাদি।

রিবোফ্লাবিন সমৃদ্ধ খাদ্য :
রিবোফ্লাবিন (ভিটামিন B-2)হলো আরেকটি ভিটামিন যা লোহিত রক্ত কনিকা তৈরিতে আবশ্যক। রিবোফ্লাবিন আপনার শরীরের শর্করা কে এনার্জীতে রুপান্তর করতে সাহায্য করে। রক্ত দেবার পর আপনি দূর্বল অনুভব করতে পারেন.. এই এনার্জীটা আপনার তখন কাজে লাগবে।
যেসব খাবারে লৌহ এবং ফলিক এসিড আছে সেসমস্ত খাবারে রিবোফ্লাবিন ও আছে যেমন : ডিম, মটরশুটি,বাদাম ,সবুজ শাক ,ব্রকলী,এসপ্যারাগাস,দুধ এবং দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য যেমন দ্ই ।

ভিটামিন B-6 সমৃদ্ধ খাদ্য :
যেসব খাদ্যে ভিটামিন B-6 আছে সেগুলা খেলে রক্ত দান করার পর খেলে আপনার জন্য উপকার হবে। আপনার শরীরের ভিটামিন দরকার যাতে হেল্দী ব্লাড সেল তৈরী হতে পারে এবং এটা শরীরে যে আমিষ রয়েছে তা ভাংতে সাহায্য করবে। কারন আমিষ এ রয়েছে অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যা রক্ত দান করবার পর আপনার শরীরের দরকার। তাই ভিটামিন B-6 খাওয়া হেল্প ফুল। ভিটামিন B-6 জাতীয় খাবারের মধ্যে আছে আলু, কলা, ডিম, পালংশাক, বিভিন্নরকম বীজ , শস্যদানা ইত্যাদি ।

প্রচুর পানি পান করুন :
রক্ত দেবার পর খাবার খেলে আপনি নতুন করে শক্তি অর্জন করতে পারবেন এবং শরীর তার নিজের নিয়মেই সব ক্ষয়ে যাওয়া ব্লাড সেল কে নতুন করে তৈরী করতে থাকে। কিন্ত পানির প্রয়জনীয়তাকে অবহেলা করলে চলবে না। খাবার খাওয়ার সাথে সাথে পানি পান করাটাও সমান জরুরী। রক্তদান করার পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘন্টা পানি পান করা একটা অত্যন্ত জরুরী বিষয় কারন তা আপনার শরীরকে রি এডজাস্ট করবে। রক্ত দেবার পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় the American Heart Association রেকমেন্ড করে আপনাকে আপনার পানি করা বাড়াতে হবে ১৬ আউন্স পর্যন্ত (৮ গ্লাস বেশী পান করতে হবে) ,এলকোহল বর্জন করতে হবে।

কি করবেন এবং কি করবেন না:

যদি আপনি রক্ত দাতা হোন তবে নিচের এডভাইসগুলা মেনে চলুন
রক্ত দেবার আগে:

সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে জরুরী রুলস – খালি পেটে কখনোই রক্ত দেবেন না।রক্ত দেবার ২-৩ ঘন্টা পূর্বে একটি স্বয়ংসম্পূর্ন মিল নেবেন যাতে আপনার ব্লাড সুগার লেভেল স্ট্যাবল থাকে।
মিল টাইমিংও খুব গুরুত্বপূর্ণ ।আপনার খাবারটা যেনো হজম হয় রক্ত দান করার পূর্বে। রক্তদান করার ইমিডিয়েট আগে যদি আপনি মিল নেন তাহলে তা আপনার পাকস্থলীকে আনসেটেল করতে পারে এবং আপনার বমি বমি ভাব হতে পারে।
যারা নিয়মিত রক্ত দান করে থাকেন ( প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর আপনি রক্ত দান করতে পারেন)তারা রক্তদান করবার সময় দয়া করে কোন রকম স্ট্রিক ডায়েট ফলো করবেন না। যদি নিয়মিত রক্ত দাতা হয়ে থাকেন তবে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন আপনার খাদ্য তালিকায় এটলিস্ট রক্তদান করবার ২ দিন আগে থেকে কারন যেদিন। রক্ত দেবেন সেদিন আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেলে আসলে খুব একটা সাহায্য হয় না কারন আয়রন শরীরে স্টোর হয়ে বিল্ড আপ করতে সময় নেয়- বলেন Annapurna agarwal ..the nutritionist at the gym and fitness centre Snap Fitness India, Bangalore. তিনি আরও বলেন -শরীর থেকে লোহিত রক্ত কনিকা রিমুভ হয়ে গেলে আয়রন ও চলে যায়( আয়রন আপনার শরীরের সেলগুলোয় অক্সিজেন ক্যারি করতে সাহায্য করে), এবং আয়রন লেভেল কমে গেলে দূর্বলতা, ক্লান্তি ভাব আসে এমনকি এর ফলে আপনি জ্ঞান হারাতে পারেন রক্ত দেবার পর পর বা কিছু সময় পর।তাই ডুমুর, প্রুনস, ডিম, কলিজা ,টমেটো জ্যুস এগুলো রাখবেন খাদ্য তালিকায় ।
শুধুমাত্র আয়রন একা কাজ করবে না তাই মেক শিউর করুন খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারও রাখার জন্য যা আয়রন কে এবসর্বশন করতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি পান করাও আবশ্যক । ” জ্ঞান হারানো এবং মাথা ঘোরানোর সবচেয়ে বড় কারন হচ্ছে ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়া , আর প্রচুর পানি পান করা এবং জ্যুস হেল্প করবে আপনার প্রেসার কে স্ট্যাবল রাখতে।” তাই রক্ত দান করবার আগে ৩-৪ গ্লাস পানি বেশী পান করবেন .. রক্তদান করবার ২ ঘন্টা আগে।

রক্ত দেবার পর:

এই টিপস গুলো দুজনের জন্যই যারা ইমারজেন্সী ডোনার কিংবা যারা রেগুলার ডোনার .. আপনাদের সাহায্য করবে এই টিপসস গুলো।

রক্ত দান করবার পর কেন জ্যুস এবং কুকি অফার করা হয় জানেন কি? কার আছে.. প্লীজ খেয়ে নেবেন এগুলা। ” রক্ত দেবার পর এটা অত্যন্ত জরুরী শরীরকে হাইড্রেড করা এবং কিছু হাই সুগার রীচ স্ন্যাকস ইনটেক করা .. before u rush off.
এই জ্যুস কিংবা স্যালাইন শরীরের ফ্লুইড লস কে রিপ্লেস করবে রক্ত দেবার কারনে যা হয়েছে।প্রচুর পানি পান করতে থাকুন আগামী ২৪-৪৮ ঘন্টা যাতে আপনার রক্তচাপ কমে না যায়।

Dr Chaturvedi’ এডভাইস করেন ক্যাফিনেটেড ড্রিংক্স ( চা, কফি, কোলা ) ইত্যাদি এভয়েড করতে পরবর্তী ৮-১০ ঘন্টা কারন ক্যাফেইন ডাইইউরেটিক( মুত্রবর্ধক)এবং শরীর থেকে প্রচুর ফ্লুইড লস করে দেয়
যারা নিয়মিত রক্তদান ক্যারী তাদের জন্য এডভাইস হল আপনারা কিছু সপ্তাহ ভিটামিন বি নিবেন এবং যে সমস্ত খাবারে ফলিক এসিড আছে সেগুলা নেবেন ( ভিটামিন বি -৯),কারন ফলিক এসিড নতুন রক্ত কনিকা তৈরী করে এবং লস্ট ব্লাড সেল কে রিপ্লেস করে যা কিনা রক্ত দান করার জন্য হয় ।
কনসেনট্রেটেড রিবোফ্লাবিন ( ভিটামিন বি -১২) আপনার শরীরের শর্করাকে এনার্জীতে রূপান্তর করে এবং ক্লান্ত ভাবের সাথে লড়াই করে । কিছু ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ খাদ্য রাখুন যা কিনা শরীরে দ্রত লোহিত রক্ত কনিকা তৈরী করে।

কিছু প্রশ্ন কিছু উত্তর :
# রক্ত দেবার পর তা শরীরে রিকোভার হতে কত সময় লাগে ?
= শরীরে প্লাজমা লেভেল রক্ত দান করার ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপ্লেস হয়ে যায়,আর লোহিত রক্ত কনিকার ৬ সপ্তাহ লাগে.. তাই বলা হয় সম্পূর্ন প্রসেস কমপ্লিট হতে ৮ সপ্তাহ দরকার।

#আমার যদি সর্দি( ঠান্ডা ) লাগে তবে রক্ত দিতে পারবো কি ?
= ঠান্ডা লাগার কিছু সিম্পটম সিমিলিয়ার কিন্ত যদি সাথে জ্বর বা মাথাব্যথা থাকে এবং কফ থাকে তবে আপনি রক্ত দিতে পারবেন না, যদি জ্বরের সাথে প্রোডাক্টিভ কফ থাকে, আপনি অসুস্থ বোধ করেন কিংবা যদি সোর থ্রোট/ লাংস ইনফেকশন এর জন্য এন্টিবায়োটিক সেবন করছেন এমন হয়ে থাকে তবে না আপনি রক্ত দান করতে পারবেন না সেই মুহূর্তে।

#রক্ত দেবার পর এলকোহল নেয়া যাবে কি ?
= এলকোহল শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করে ফেলে, এবং যেহেতু আপনার শরীরে তখন ফ্লুইড ভলিউম এমনিই কম থাকে তাই তখন এলকোহল কনজাম্পসন করা উচিত না। আনপ্রেডিকটেবল এফেক্ট পরতে পারে।

#রক্ত দেবার পর কতক্ষন এক্সারসাইজ করা যাবে?
=প্রত্যেক টা মানুষের বডি রিকোভার সিস্টেম আলাদা। তবে আমেরিকান রেড ক্রস রেকমেন্ড করে প্রফেশনাল বডি বিল্ডার রাও যেনো পরবর্তী ৫ ঘন্টা কোন রকম ওয়ার্ক আউট থেকে বিরত থাকতে আর যদি নবীশ হওয়া থাকেন বা নতুন নতুন ওয়ার্ক আউট করছেন এমন কেউ তবে পরবর্তী ১২-২৪ ঘন্টা বা যতক্ষন আপনি পুরোপুরি সু্স্হ না হোন ততক্ষন বিরত থাকুন।

#আমার কিছুদিন আগে ব্লাড ট্রাসফিউশন হয়েছে সেক্ষেত্রে আমি কি এখন ডোনার হতে পারবো?
= ব্লাড ট্রান্সফিউশন হয়ে থাকলে কমপক্ষে ১২ মাস অপেক্ষা করুন অন্য কাউকে রক্ত দান করার আগে।

#রক্ত দান করার আগে কি আমি এক্সারসাইজ করতে পারবো?
= রক্তদান করার ২ ঘন্টা আগে ১৬ আউন্স মানে ৮ গ্লাস পানি খেতে বলা হয় , তাই যদি কি া আপনি রক্ত দান করার আগে ব্যয়াম করেন তাহলে সেই রিকোয়ারমেন্ট পুরা হবে না কারন এক্সারসাইজ করার ফলে শরীর থেকে ফ্লুইড লস হবে যা সামন্জস্য নয়.. প্রি ডোনেশন এমাউন্ট ফুলফিল হবে না

#মাসিক চলাকালীন সময়ে রক্ত দিতে পারবো কি ?
=আমাদের দেশের নারীরা অধিকাংশই রক্তস্বল্পতায় ভোগেন.. মাসিক চলাকালিন শরীর থেকে আরও রক্ত চলে যাবার কারনে এনিমিয়া দেখা দিতে পারে তাই মাসিক চলাকালিন সময়ে রক্ত দিতে চাইলে এনিমিক কিনা পরীক্ষা করে দেখুন। সমস্যা সেটি নয় যে iron per SE but circulation of volume.আপনি হয়তো ডোনেট করলেন কিন্ত দেখা গেল ডোনেশন এবং PV loss এই দুয়ের কম্বিনেশন এ ব্লাড ভলিউম অনেক কমে গেল, আপনার হৃদযন্ত্র কে আরও হার্ড ওয়ার্ক করতে হচ্ছে এবং ফলাফল আপনি দূর্বলতা অনুভব করছেন এবং এনিমিয়া ডেভেলপ করছে। তাই না দেয়াই ভাল

#নারীরা কি রক্ত দিতে পারেন ?
= জি পারেন। তবে রেকমেন্ড করা হয় বছরে ৩ বার এর বেশী নয়,

#আমার ডায়বেটিক আছে রক্ত দিতে পারবো কি ?
=যদি ডায়বেটিক থাকা সত্তেও আপনার শারীরিক কোন কমপ্লিকেশন যেমন চোখ, রক্তে নালী সম্পর্কিত , কিডনী সংক্রান্তে জটিলতা না থাকে এবং ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রনে থাকে ডায়েট এবং ওরাল মেডিকেশন এর মাধ্যমে তবে আপনি রক্ত দিতে পারবেন তবে যদি ইনসুলিন ডিপেডেন্ট হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নিয়ে নেবেন ।

#রক্ত দেয়া কি খুব জরুরী ?
= জী, কারন প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের রক্ত দরকার হচ্ছে আপনি যদি এলিজিবল হোন তবে আপনার দেয়া এই ৪৫০ মিলি রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম।
#কোন ব্লাড গ্রুপ এর রক্ত বেশী জরুরী ?
= সবচেয়ে রেয়ার গ্রুপ হচ্ছে O গ্রুপ.. এছাড়া AB গ্রুপ।

তো আসুন রক্ত দেই, জীবন বাচাই । এবং উপরের নিয়ম গুলো অনুসরন করি। নিজে জানি অন্যের জানতে সাহায্য করি। দয়া করে রক্ত দিতে ইতস্তত করবেন না হয়তো কোথাও না কোথাও আপনার দেয়া রক্ত একজনের জীবন বাচিয়ে দেবে। 😊

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

পাঠকের মতামতঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here