ফ্যাট কি ?

0
5113

#ফ্যাট

আজকে ম্যাক্রোনিউট্রিশিয়ান(কার্বস, প্রোটিন,ফ্যাট) এর শেষ অংশ মানে ফ্যাট নিয়ে আলোচনা করবো। এর আগে কার্বোহাইড্রেট আর প্রোটিন নিয়ে লিখেছিলাম। পোস্টের নিচের লিংক থেকে কার্বস আর প্রোটিন পোস্ট দেখে নিতে পারেন। যাই হোক, আলোচনায় আসা যাক। এইখানে ফ্যাট এর বেসিক ব্যাপারগুলো নিয়েই আলোচনা করবো।

ফ্যাট ব্যাপারটা নিয়ে আমরা একটু বেশিই চিন্তিত থাকি। ফ্যাট খেলে কি ফ্যাট বেড়ে গেলো কিনা বা মোটা হয়ে গেলাম কিনা এইসব নিয়েই আমাদের ভাবনা সবসময়ই থাকে ডায়েট করাকালীন।
যাই হোক, আজকে এইসব চিন্তার অবসান হবে আশা করি।
প্রথমেই একটা বলি, ডায়েটে আমরা লো ফ্যাট ডায়েট করতেই বেশি পছন্দ করি। কারন লো ফ্যাট ডায়েট ওয়েত লসের মূলমন্ত্র বলা যাই। ফ্যাট আপনি খাবেন তবে তা অবশ্যই বুঝে শুনে। যে ফ্যাট আপনার দরকার বা যা খেলে আপনার জন্যে ভালো তাই খাবেন। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, **EAT FAT TO LOSE FAT** কি বুঝলেন?? হাস্যকর তাইতো?? একেবারেই নয়। কেন নয় সেটা আরো পরে বুঝবেন।
একটা কথা বলে রাখি, আমাদের বডি মাসল এবং ব্রেইন ফাংশন এর এনার্জি সোর্স এই ফ্যাট। তাই ফ্যাট একেবারে বাদ করা যেমন যাবে না আবার একেবারে বেশি(না বুঝে) খাওয়া যাবেনা। মাক্রোনিউট্রিশিয়ান অনুসারে ২০%-৩০% পর্জন্ত ফ্যাট খাওয়া যেতে পারে।

#ফ্যাট কিঃ
====
এটি একটি অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড। এটি হাইড্রোজেন,অক্সিজেন,প্রোটিন ইত্যাদি নিয়ে গঠিত। ৩ টি(-OH)মূলক থাকে.এই জন্য ফ্যাটকে ট্রাইগ্লিসারাইড (Triglyceride) বা ব্লাড ফ্যাটও বলে।

#প্রকারভেদঃ
======

প্রধানত ২ ধরনের ফ্যাট আছে।
১) স্যাচুরেটেড ফ্যাট
২) আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট

আনস্যাচুরেটেড এর ৩ টা অংশ।

 ট্রান্স ফ্যাট
 মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট
 পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট

## ১) স্যাচুরেটেড ফ্যাটঃ
===============

এই ফ্যাট রুম টেম্পেরেচারে শক্ত হয়ে যাই। এই ফ্যাটের মেইন সোর্স হলো প্রানিজ খাদ্য। যেমন মাছ, মাংস, ডিম(কুসুম) এইসব। এক কথাই, প্রানী থেকে যে ফ্যাট আসে সেটাই স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই ফ্যাট আমাদের কোলেস্টেরল এবং Low-Density Lipoprotein (LDL) খারাপ ফ্যাটের পরিমান বাড়ীয়ে দেয়। যে কারনে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিস এবং টাইপ ২ ডায়বেটিক সমস্যা বেড়ে যায়। তাই যাদের এইসমস্যা তাদের এই জাতীয় ফ্যাট কম খেতে হবে।

## ২) আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট
======================

যা রুম টেম্পেরেচারে লিকুইড থাকে। এতা স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে ভালো। এটা শরীরে HDL মানে হলো ভালো ফ্যাটের এর পরিমান বাড়িয়ে দেয়।

## ট্রান্স ফ্যাটঃ
========

এই ফ্যাট ও অনেকটা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মতই। মানে হলো এই ফ্যাটের সোর্স হলো প্রানিয় খাদ্য। এই ফ্যাট ও কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিস এবং টাইপ ২ ডায়বেটিক এর সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

## মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটঃ
===========

সাধারনত তেল,বাদাম, সীড জাতীয় খাবার থেকে এই ফ্যাট আসে। এই ফ্যাট কেই আমরা ভালো ফ্যাট বলতে পারি। অলিভ অয়েল, পিনাট অয়েল, ক্যানলা অয়েল, বাদাম, বীজ(শস্যদানা) থেকে এই ফ্যাত আসে। এই ফ্যাত আমাদের ব্লাড কোলেস্ট্ররল লেভেল ভালো রাখে। হার্ট ডিজিস , টাইপ ২ ডায়বেটিক এই ফ্যাট খাওয়া উচিত।

## পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাটঃ
==============

মনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের মতই এই ফ্যাট। এই ফ্যাটের উতস হলো ভেজিট্যাবল অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল, সয়া, বাদাম, বীজ। এটাও ভালো ফ্যাট। ওমেগা ৩ হলো পলিস্যাচুরেরেটেড ফ্যট। যা হার্ট ভাল রাখে। ব্লাড কোলেস্ট্ররল লেভেল, হার্ট ডিজিস থেকে মুক্ত , টাইপ ২ ডায়বেটিক রুগী এই ফ্যাট খাওয়া ভালো।

#কিছু ফ্যাট জাতীয় কিছু খাবারের নামঃ
=====================

 এভোক্যাড ফল
 কাটবাদাম(আমন্ড)
 আখ্রোট(ওয়ালনাট)
 পিনাট(চিনা বাদাম)
 পিনাট বাটার।
 সয়া বিন
 বেকন
 ক্যানলা ওয়েল
 ওলিভ ওয়েল
 ডিমের কুসুম
 ফ্যাক্সসিড(তিসি বীজ)
 মাছ তেল(ওমেগা ৩)
 স্যামন ফিস

#কি পরিমান ফ্যাট খাওয়া যাবেঃ
===================
আসেন কি পরিমান ফ্যাট খাওয়া যাবে সেটা হিসেব করি।
কমপক্ষে, পার পাউন্ড বডী ওয়েটের ০.৪ গ্রাম ফ্যাট খাওয়া যাবে। মানে হলো, যদি আমার ওজন হয় ১৫৪lbs পাউন্ড(৭০ কেজি)। তাহলে ১৫৪ * ০.৪ = ৬১ গ্রাম ফ্যাট দরকার।

পরিশেষে একটা কথা না বললেই নয়,
পরিমান মত সব কিছুই খান। সুস্থ থাকবেন।
যাই হোক, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন
#বি ফিট #বি স্ট্রং #বি স্মার্ট

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
13

পাঠকের মতামতঃ