জীম করছি কিন্ত ওজন কমে না কেনো? শরীরের কোন পরিবর্তনের আভাস নেই কেনো? আসুন জেনে নেই

0
2568

#কিছু_কারন_জীম_করা_সত্তেও_ওজন_না_কমার_কারন::

ব্যয়াম করছেন কিন্ত ফল পাচ্ছেন না .. অনেকেই এমনটা বলে থাকেন। অনেকেই জিজ্ঞেস করেন ব্যয়াম করেছি কিন্ত কোন রেজাল্ট তো দেখতে পাচ্ছিনা ; ওজন কমছেনা ; ইত্যাদি .. তো আসুন সে বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করা যাক –

# আপনি আপনার শারীরিক ক্ষমতার পুরোটা জীমে ব্যবহার করছেন না::
আপনি পূর্নোদ্দমে ব্যয়াম করছেন না; হয়তো ভাবছেন আপনি পারেন না, পারবেন না, আপনাকে দিয়ে হবেনা.. বা অনেকটা দায়সারা ভাবে ব্যয়াম করছেন। আপনি হয়তো সবগুলো রেপ্স সবগুলো সেটস এক্সিকিউট করছেন কিন্ত প্রতিদিন এক্টু এক্টু করে উন্নতি করার জন্য যা দরকার তা করছেন না। ফলে যতটুকু পরিবর্তন দরকার তা হচ্ছেনা । প্রতিদিন তার আগের দিনকার ওয়ার্কআউট এর তুলনায় এক্টু খানি করে এফোর্ট বেশী দিন।

#মাসল গ্রুপ এভয়েড করেছেন ::
আপনি হয়তো কোনো মাসল ফিটনেস গ্রুপ এর সাথে যুক্ত আছেন .. তাদের এক্টিভিটিজ দেখেন নিয়মিত, ভাবেন তাদের মতন হবেন, হয়তো ভাবলেন আজকে শুক্রবার ;ছুটির দিন বরং কাল থেকে নতুন উদ্যমে শুরু করবো কিন্ত পরদিন আর আসেনা আর আপনিও নিত্যকার রুটিন মতন পুরানো ওয়ার্কআউট গুলোই করে যান.. ফলাফল আপনার উদ্যমের অভাব, স্টিমুলেশনের অভাব। নতুন কিছু শিখুন, ট্রাই করুন। পুরানো জিনিস করতে করতে একঘেয়েমি চলে আসবে । ভাল লাগবে না।

#পিক আওয়ারে জীমে যাওয়া::
আপনি হয়তো অবচেতন মনেই এমন সময়ে জীমে যাচ্ছেন যখন কিনা পুরা জীম ভর্তি থাকছে .. ফলে আপনি যে যে মেশিনারিজ দিয়ে ওয়ার্কআউট করেন বা করতে চান তা ফাঁকা পাচ্ছেন না কারন কেউ না কেউ তা দিয়ে ওয়ার্ক আউট করছে.. আপনি হয়তো বা ৪ সেট করতেন সেই ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে কিন্ত লোকের তাগাদার জন্য ২ সেট করেই তাকে তা ছেড়ে দিতে হচ্ছে কিংবা আপনি ভাবলেন থাক আজকে আর ঐ মেশিনারিজ দিয়ে ওয়ার্ক আউট করবো না সব বিজি । এরকম করার ফলে আপনার কিন্ত ওয়ার্কআউট অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই এমন সময় বেছে নিন যখন আপনি আপনার ওয়ার্কআউট সম্পূর্ন করতে পারবেন কেউ বিরক্ত করবে না।

#প্রতিটা সেটের মাঝে অতিরিক্ত বিরতি দেয়া ::
আপনি আপনার প্রতিটা সেট কাউন্ট করে করছেন না, বিরতি দিচ্ছেন বেশী । সম্পূর্ন সেট শেষ করতে হয়তো ৫ মিনিট বা তার বেশী সময় নিচ্ছেন । আপনি তো পাওয়ার লিফটার নন তাই সেটগুলা করতে সময় বেশী নিচ্ছেন ; অতিরিক্ত সময় নিচ্ছেন। ফলাফল ৪৫ মিনিটের ওয়ার্কআউট টাইমে আপনি কেবলমাত্র অর্ধেক ওয়ার্ক আউট করতে পারবেন ।

# আপনি তখনই ওয়ার্ক আউট করেন যখন আপনার ভাল লাগে::
যখন আপনার মুড থাকে আপনি কেবল তখনই ওয়ার্ক আউট করেন কিন্ত সব সময় কি আর মুড থাকে বলুন.. তাই সবসময় ওয়ার্কআউট করাও হয়না.. বরং আপনি অজুহাত খুঁজে বের করেন যে আপনি আজকে টায়ার্ড , কাজের আজকে বেশী প্রেসার ছিল বা আজকে শরীরটা ভাল লাগছে না কাই ওয়ার্ক আউট করবো না। ফলাফল অনিয়ম যার কারনে কাংখিত ওজন হ্রাস হয় না।

# যখনই ব্যথা অনুভুত হয় আপনি ওয়ার্কআউট করা থামিয়ে দেন ::
যখন ওয়ার্কআউট করতে করতে আপনার ব্যথা অনুভুত হয় আপনি থেমে যান, কিন্ত জানেনকি মাসল পেইন তখনই শুরু হয় যখন সে একটা পরিবর্তন এ আসতে থাকে। সে বদলাতে চায়। তাই ব্যথা হলেই থামিয়ে দেবেন না বা কোন রকম ব্যথানাশক ওষুধ নেবেন না। বরং ব্যয়াম চালিয়ে যেতে থাকুন। কাজ হবে।

#ওয়্ট ট্রেইনিং কে অবহেলা করেন::
আপনি বেশী বেশী কার্ডিও করে সময় নস্ট করেন অথচ নির্দিষ্ট সময় কার্ডিও করে তারপর ওয়েট ট্রেইনিং করা দরকার। ওয়েট ট্রেইনিং না করলে মাসল টোনড হবেনা, বডি শেপ এ আসবে না। মাসল কেও জ্বালানি দিতে হবে তো।

#খুব হাল্কা ওয়েট ক্যারি করেন::
আপনি যতটুকু দরকার তার চাইতে কম ওজনের ওয়েট লিফ্ট করেন, কখন বুঝবেন আপনি কম ওজন/ হাল্কা ওজন দিয়ে ওয়েট লিফটিং করছেন? যখন আপনি ফোকাস করবেন যে এটা দিয়ে করতে আপনার কোন রকম কস্ট হচ্ছেনা, সহজেই করতে পারছেন বা যদি কখোনো আপনার মনোযোগ ছুটে যায় যার ফলে ওজন টা হাত থেকে পরে যাওয়া স্বত্তেও আপনি চিন্তিত নন যে আপনার মাসল এর কোন ক্ষতি হলো কিনা তখন বুঝবেন আপনি হাল্কা ওজন নিয়ে ব্যয়াম করছেন।

#প্রোয়জনের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ওয়েট লিফটিং করছেন ::
প্রয়োজন এর বেশী ওজন নিয়ে ওয়েট ট্রেনিং করলে আপনি আপনার সেট পুরা করতে পারবেন না। হয়তো আপনার ৪ টা লেট করার কথা ২০ টি রেপ্স দেয়ার কথা সেখানে আপনার ইগোর জন্য জিদের জন্য আপনি বেশী মাত্রার ওয়েট নিয়ে এক্সারসাইজ করে যাচ্ছেন যার ফলে ৪ টা সেট এর স্হলে ২টা সেট বা ২০ টা রেপ্স করার বদলে মাত্র ৫-৭ টি রেপ্স করেই হাপিয়ে যাচ্ছেন। ওয়ার্কআউট সম্পূর্ন হচ্ছেনা। তাই যতটুকু মেনটেন করতে পারবেন ততটুকুই ক্যারি করুন। প্রয়োজনে বেল্ট ব্যবহার করুন ( নিরাপত্তার জন্য)

# কোন সাপ্লিমেন্ট নিচ্ছেন না::
আপনি কোনো সাপ্লিমেন্ট নিচ্ছেন না। হতে পারে সেটা ক্যাফেইন , প্রোটিন ইত্যাদি কিন্ত কোন অভিয়াস রিজন ছাড়া আপনি এগুলো এভয়েড করে যাচ্ছেন । এদের উপকারীতা হারাচ্ছেন। ফলাফল আপনার মাসল বিল্ডিং অপসন থেকে বন্চিত হচ্ছেন।

#আপনার ওয়ার্কআউট রুটিন ইমপ্রুভ করছেন না::
আপনি ওয়ার্কআউট করেই যাচ্ছেন কিন্ত চেক করছেন না প্রতিদিন কি করছেন কতটুকু করছেন।
একী রুটিন মেনে চলছেন। একঘেয়েমী আসার সাথে সাথে শরীরও এটাতে অভ্যস্ত হতে যায় তাই কোন উন্নতি দেখা যায় না ।

#আপনি ভয় পাচ্ছেন::
আমরা নারীরা এই ভয়সবচেয়ে বেশী পাই হায় আল্লাহ আমি যদি ওয়েট ট্রেনিং করি তাহলে তো আমার পুরুষদের মতন মাসল বিল্ড আপ হয়ে যাবে .. শরীর পুরুষালী হয়ে যাবে ; তখন কি হবে??
আসল কথা হলো আমরা অনেকেই জানিনা মেয়েদের শরীরে মাসল বিল্ড করার জন্য যে হরমোনটি দরকার তা খুবই অল্প পরিমানে থাকে যেটা থেকে মাসল বিল্ড হবার কোনো রকম সম্ভাবনা নেই যতক্ষন না আপনি স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন। তাই ভয় না পেয়ে নিশ্চিন্তে মনে ওয়েট লিফট করুন। বরং ওয়েট লিফটিং করলে মাসল বিল্ড না হয়ে আপনার মাসল এর স্ট্রেন্থ বাড়বে ।

#কার্ব একেবারে বাদ দিয়ে দেয়া ::
আপনি ভাবেন কার্ব নিলেই মোটা হয়ে যাবেন তাই ডায়েট থেকে কার্ব একেবারেই বাদ দিয়ে দেন। যেটা সম্পূর্ন ভুল। নির্দিষ্ট পরিমান কার্ব শরীরে অত্যাবশ্যক ।

#বংশধারাকে দোষারোপ করা::
খুব কমন একটি কথা আমি বংশগত ভাবে মোটা। আমি কখনো শুকাতে পারবো না। যেটা সম্পূর্ন মীথ। যার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। সঠিক পটেনশিয়াল দিন আপনি অবশ্যই পারবেন । প্রমান আমি নিজে।

আমি আমার মূল্যবান সময়ে কাজে লাগাতে চেস্টা করি.. মানে হলো আমি আমার জন্য কোন ব্যয়াম টি দরকার কোনটা কখন করবো আমার শিডিউল অনুযায়ী আমি করতে চেস্টা করি এবং এটাই আমার শরীরের ভাল রাখে।

যখন কিনা আমার ওয়ার্কআউট এর কথা আসে আমি কোয়ালিটির উপর বিশ্বাস রাখি কোয়ান্টিটির উপর নয় ।আমি এক্সারসাইজ করি যা আমারে চ্যালেন্জ দেবে কিন্ত কোন রকম ইনজুরিতে ফেলবে না। এখানে মজা করার কোন জায়গা নেই যে আপনি এমন কোন ওয়ার্ক আউট করছেন যা আপনাকে ইনজুরিতে ফেলে দেবে।

আমি কোন রকমের বিরক্তিকর ব্যথাও পছন্দ করবো না যেটা কিনা কিছু সংখ্যক ওয়ার্ক আউটের কারনে আমার হতে পারে যা আসলে আমার করা উচিত নয়। আমি আমাকে তৈরি করি সেটা করার জন্য যেটা আমার শরীর আমাকে করার জন্য উৎসাহিত করে এবং যা করতে হলে আমার শরীর আমার কথা শুনবে। কারন যদি শরীর ঠিক না থাকে তাহলে এ সমস্ত কনসেন্ট এবং ভুলভাল ওয়ার্ক আউট আপনার জন্য কোন ক্রনিক ইস্যু। তৈরি করতে পারে। তাই আমি এগুলা কে বলি No thanks..আপনার ট্রেনিং আসলে হতে হবে স্মার্ট ; হার্ডার নয়।

আমার কাউকে কিছু প্রমান করার দরকার নেই বিশেষ করে সেটা যদি আমার ফিটনেস এর ব্যপারে হয়ে থাকে। আমি শুধু আমার শরীরকে ফিট রাখতে চাই, তাকে মেনটেন করতে চাই শুধুমাত্র এজন্য নয় যে আমি দেখতে সুন্দর হতে চাই বরং এজন্য যে সারাজীবন যেনো আমি গ্রেট ফিল করতে পারি। এর মানে হলো আপনি আপনার রুটিন টা সিম্পল , স্মার্ট এবং ইফেক্টিভ ভাবে তৈরী করুন যাতে আপনি তা সুন্দর ভাবে সমপন্ন করতে পারেন। আমি এগুলোই করে থাকি যাতে করে আমার শরীর সু্স্হ থাকে, হ্যাপী থাকে এবং আমি ভাল ফিল করতে পারি।

আমাদের শরীর একটি অতি আশ্চর্য্য জনক যন্ত্র ; এটা এপ্রিশিয়েট করে স্মার্ট মেনটেইন্যান্স; বিভিন্ন রকম কোয়ালিটি মুভমেন্ট এর মাধ্যমে এবং উন্নত মানের জ্বালানি তৈরী করতে পারে শক্তি উৎপাদনের জন্য। একটি শরীরকে যদি ওভার ট্রেনিং করানো হয় কিছু poor exercise technique এর মাধ্যমে তাহলে সেই শরীর তৈরী হবেনা.. বরং দিন দিন ক্ষয় প্রাপ্ত হবে।

স্মার্ট কিন্ত চ্যালেন্জিং ট্রেনিং যেমন এরোবিক্স,স্ট্রেন্থ ট্রেনিং, এনডুওরেন্স , স্টেবিলাইজেশন, এবং ফ্লেক্সিবিলিটি ওয়ার্ক আউট দরকার শরীরের জন্য। সহজ কিন্ত এফেক্টিভ ওয়ার্ক আউট রাখুন আুনার রুটিনে.. যার মাধ্যমে আপনি আপনার লক্ষে পৌঁছাতে পারবেন এবং হেল্দী ফিজিক মেনটেইন করতে পারবেন।
এটা কোন কঠিন চ্যালেন্জ নয় বরং আমাদের ফোকাস্ড হতে হবে , শরীরকে প্রতিনিয়ত পুশ করতে হবে যাতে তার সক্ষমতা বাড়ে।

আসুন স্বাস্হ্যকে সম্পদ এ পরিনত করি।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
2

পাঠকের মতামতঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here