ওজন কমানো নিয়ে কিছু ভুল ভ্রান্ত ধারনা

0
2693
ওজন কমানো নিয়ে কিছু ভুল ভ্রান্ত ধারনা

দ্রুত কমালে আবার দ্রুত বাড়েঃ
ওজন কমাবেন ধীরে, না দ্রুতআপনার ওজন একটু বেশিই বেড়ে গেছে। তা কমাতে চান। কিন্তু ভাবছেন, দ্রুতগতিতে কমাবেন, নাকি ধীরে ধীরে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, যত দ্রুতগতিতে শরীরের ওজন কমে, ঠিক তত দ্রুতই তা আবার বৃদ্ধি পায়। আর ধীরগতিতে দীর্ঘদিন ধরে ওজন কমালে, তা বৃদ্ধি পেতেও অনেক সময় নেয়। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। এটি আসলে একটি মিথ। রূপকথার গল্পের মতো, বাস্তবে তা সত্য নয়। অস্ট্রেলীয় একদল গবেষক এই দাবি করেছেন। অস্ট্রেলীয় গবেষকেরা বলছেন, যে গতিতেই—দ্রুত কিংবা ধীর—ওজন কমানো হোক না কেন, তা আবার একই হারে বাড়তে থাকে। গবেষণাপত্রটি দ্য ল্যানসেট ডায়াবেটিস অ্যান্ড এনডোক্রিনোলজি সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক যোশেফ প্রোইয়েত্তোর নেতৃত্বে পরিচালনা করা হয় ওই গবেষণা। এতে ২০৪ জন স্থূলকায় নারী ও পুরুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দলের সদস্যদের শরীরের ওজন কমানোর জন্য রাখা হয় ১২ সপ্তাহের প্রকল্পে। অন্য দলটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ৩৬ সপ্তাহের প্রকল্পের আওতায়। প্রথম দলটিকে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ থেকে ৮০০ ক্যালরির খাদ্য গ্রহণের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। দ্বিতীয় দলটির জন্য বেঁধে দেওয়া হয় ৫০০ ক্যালরি। দুটি দলে যাঁদের শরীরের সাড়ে ১২ শতাংশ কিংবা এর বেশি ওজন কমেছে, তাঁদের তিন বছর ধরে নিয়ম মেনে খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সময়ের পর আবার দেখা যায়, তাঁদের প্রত্যেকের এর আগে কমে যাওয়া ওজনের প্রায় ৭১ শতাংশ আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। খালিজ টাইমস|

ব্যায়াম করলেই ওজন কমে, ডায়েটের দরকার নেইঃ
অনেকে ভাবেন শুধু ব্যায়াম করলেই ওজন কমানো সম্ভব। জিমে গিয়ে ঘাম ঝরালে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের কোন দরকার নেই। খুবই ভুল ধারণা। একটা উদাহরন দিলেই বুঝতে পারবেন। আপনি হয়তো জিমে এক ঘন্টা ব্যায়াম( নির্ভর করবে কী ধরণের ব্যায়াম করছেন তার উপর) করে ১০০ থেকে ৩০০ ক্যালরি বার্ন করলেন। কিন্তু এক গ্লাস কোল্ড ড্রিঙ্ক বা একটা বার্গার খেলে আপনার শরীরে জমা হবে ১৫০০ থেকে ২০০০ ক্যালরি। অঙ্কটা কী এবার বুঝতে পারছেন? কাজেই শুধু জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরালে কোনো লাভ হবে না। সেই সাথে মেনে চলতে হবে হেলদি ডায়েট।

ওয়েট ট্রেনিং করলে ছেলেদের মত পেশীবহুল শরীর হয়ঃ
এটা একটা মস্ত বড় ভুল ধারণা। অনেক মেয়েই জিমে গিয়ে ওয়েট ট্রেনিং এর জন্য না করে দেন এই ভেবে যে, ওয়েট ট্রেনিং করলে চেহারা ও বডি ছেলেদের মত মাসকুলার হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিকমত ওয়েট ট্রেনিং করলে কখোনোই বডি মাসকুলার হবে না। কারণ মেয়েদের মধ্যে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের অভাব। বরং বডি টোনিংয়ের জন্য ওয়েট ট্রেনিং একান্ত জরুরী।

বেশি পানি খেলে শরীর ফুলে যায় এবং মোটা হয়ঃ
বেশি বেশি পানি খেলে শরীর ফুলে যায় এমন ভ্রান্ত ধারনা নিয়ে অনেকেই পানি খাওয়া কমিয়ে দেন। এমনটা করবেন না। বরং শরীরের বিপাক ক্রিয়া ঠিক রাখার জন্য পানি অতি জরুরী। দিনে কমপক্ষে ৮ থেকে ১২ গ্লাস পানি অবশ্যই খেতে হবে।

কলা খেলে মোটা হয়ঃ
একথাটা প্রায়ই শোনা যায়। অন্যান্য সব ফল খেলেও মোটা হবার ভয়ে কলা থেকে অনেকেই শত হাত দূরে থাকেন। কিন্তু কলায় থাকা মিনারেল, পটাশিয়াম আর ভিটামিন আমাদের দেহের জন্য অনেক উপকারী। একটা কলায় থাকে ৮০ থেকে ১২০ ক্যালরি। যেখানে চিপস, ভাজাপোড়া বা এক পিস সন্দেশে অনেক বেশি ক্যালরি থাকে। কাজেই সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ ক্ষিদে পেলে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার না খেয়ে একটা কলা খেতে পারেন। পেটও ভরবে, অনেক পুষ্টিও পাবেন।

শুধু মর্নিং ওয়াক করলেই ওজন কমেঃ
মর্নিং ওয়াক শরীর ও মনের জন্য খুবই ভালো। এটি হার্ট, ব্রেন ভালো রাখে। বয়স্ক মানুষ যাদের জন্য ভারী ব্যায়াম করা সম্ভব নয় তাদের জন্য মর্নিং ওয়াকের মত ভালো কোনও কিছু হতেই পারে না। কিন্তু আপনি যদি ওজন কমাতে চান এবং বডি টোনিং করতে চান তবে শুধু মর্নিং ওয়াকে কোনো কাজ হবে না। এর সাথে যোগ করতে হবে সঠিক ব্যায়াম রুটিন এবং যথাযথ খাদ্যাভ্যাস।

ঝোঁকের বসে ডায়েট করবেন না
ওজন বাড়তেই পারে আর তখন ওজন কমানোর জন্য ডায়েট অনেকেই করে থাকেন। কিন্তু ঝোঁকের বসে ডায়েট করবেন না। ঝোঁকের বসে ডায়েট মানে কিছুদিন খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে খুব সচেতন হয়ে গেলেন কিন্তু কিছুদিন পর আবার এই সচেতনতা ছেড়ে দিলেন, এই কাজ গুলো না করাই ভালো। ওজন বৃদ্ধি পায় খুব সহজে কিন্তু ওজন কমানো মোটেও সহজ কাজ নয়। তাই ধৈর্যের সাথে সবকিছু করুন।

ওজন কমানোর পিল খাওয়াঃ
অনেকেই মনে করে থাকেন ওজন কমানোর পিল বা ঔষধ খেলে দ্রুত ওজন কমে। কথা সত্য ওজন কমানোর পিল আপনার ওজন দ্রুত কমাবে তবে তা আপনার শরীরে দীর্ঘমেয়াদী খারাপ প্রভাব ফেলবে।

শুধুমাত্র লো ফ্যাট খাবার খাওয়াঃ
শুধুমাত্র লো ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া। কিন্তু ওমেগা থ্রি এবং ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। শুধুমাত্র ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিন।

ব্যায়াম করলে ইচ্ছামত খেতে পারবেনঃ
অনেকে মনে করেন ব্যায়াম করলে ডায়েট করার প্রয়োজন নেই। ইচ্ছামত ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া যায়। ব্যায়াম আপনার চর্বি পোড়াতে সাহায্য করবে। কিন্তু এর সাথে লো ক্যালরি খাবার ডায়েটে রাখতে হবে। আপনি সারাদিনে যে পরিমাণে শর্করা বা প্রোটিন গ্রহণ করবেন সেটি ব্যায়ামের মাধ্যমে বের করে দিতে হয়।
সুত্রঃ ইন্টারনেট

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
7

পাঠকের মতামতঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here